সম্পাদকের টোকা :
সিলেটের সাদাপাথরে যখন হরিলুট চলছিলো, তখন পতাকানিউজের জন্ম হয়নি। নিউজগুলো তাই আমরা ধারণ করতে পারিনি। আমাদের ‘গর্ভধারণ’ই হয়েছে আরো পরে। আর গত মাসে পাথর লুটপাট যখন তুঙ্গে, পতাকানিউজ তখন আঁতুরঘরে। এখন আমরা বলা যায় দুধের শিশু। কিন্তু এই হতভাগা জাতির জন্য প্রয়োজন দুধদাঁত থেকে দ্রুত বিষদাঁত গজিয়ে ওঠা কবি নজরুলের সেই ‘বিরাট শিশু’, যে কি না হেসেখেলে সরিয়ে যাবে সমাজের বিষ-জঞ্জাল; দেশটাকে বাসযোগ্য করে নেবে ভবিষ্যতের শিশুদের জন্য।
পতাকানিউজ এই ভূমিকায় থাকতে চায়। পাথর লুটপাটের মতো বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে আমরা তাই দারুণ বিচলিত। ‘শিশু যাদুকর’-এর মতো আমরা পাথর লুটের আরো অন্ধকার দিক, আরো কালোমুখ উন্মোচনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। পতাকানুসন্ধানে আজ থাকলো তেমনই আরেক অধ্যায়ের গল্প।
.
সাদাপাথরে লুটপাট এক-দুই দিনের নয়। ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত এক বছর ধরেই লুটপাট চলেছে। তবে গত জুলাই মাসের শেষভাগ থেকে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে নিঃশেষ হতে থাকে সাদাপাথর। গত ৯ আগস্টের আগের ১৮ থেকে ২০ দিনে সব পাথর গায়েব হয়ে যায়! এরপরই টনক নড়ে প্রশাসনের। কিন্তু হঠাৎ পাথর উধাও হলো কী করে? এর অনুসন্ধানে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সাদাপাথর ও ধলাই নদীরে আশেপাশে ঘুরেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত গত ২০ জুলাইয়ের পর থেকে সাদাপাথরে লুটপাটে রকেটগতি আসে। দ্রুত পাথর নিঃশেষ হতে থাকে। কিন্তু এর কারণ অনেকে জানেন না। স্থানীয় কেউ কেউ ভয়ে গণমাধ্যমকে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি।
গত ২০ জুলাইয়ের পর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এমন কী নতুন ঘটল। সেই তথ্য খোঁজতে গিয়ে জানা গেছে, সাদাপাথরের অদূরে অবস্থিত ধলাই সেতু সংলগ্ন ‘ধলাই নদী দক্ষিণ বালু মহাল’ বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই ইজারা চুক্তি সম্পাদন হয়। বার্ষিক ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ টাকায় ধলাই নদীর ২১৭ দশমিক ৭০ একর ইজারা নেন মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ। এর সত্ত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
পাথর লুট বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার সময় মিলে যাওয়ার পর প্রশ্ন আসে তবে কি এই দুইয়ে যোগসূত্র আছে? এ নিয়ে অনুসন্ধানে মিলল আরো তথ্য।
বালু ইজারা নিয়ে পাথর লুটপাট:
আব্দুল্লাহ আল মামুনের নামে বালুমহাল ইজারা নেওয়া হলেও এর পেছনে প্রভাবশালী দুই ব্যক্তির নাম জড়িয়ে আছে। তারা হলেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুল ওদুদ আলফু এবং সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ।
নাম প্রকাশ না করে উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা ও বালু-পাথর ব্যবসায়ী বলেন, ‘আলফু চেয়ারম্যানের ভায়রা ভাই এই আব্দুল্লাহ। লিজ আনলেও আওয়ামী লীগ ঘরানার হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বর্তমানে তারা প্রভাবহীন। তাদের ডেভিল (দুষ্টু) আখ্যা দিয়ে স্থানীয়রা কোণঠাসা করে রেখেছিলেন। ফলে তারা প্রভাব ফিরে পেতে যুবদলের নেতা মোহাম্মদ মকসুদ আহমদকে অলিখিত পার্টনার (অংশীদার) করে নেন। মকসুদ আহমদকে সঙ্গে নিয়ে আলফু চেয়ারম্যান ফের প্রতাপশালী হয়ে উঠেন। সবকিছু নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন।’

ধলাই নদী দক্ষিণ বালুমহালের ইজারা চুক্তি সম্পাদনের আরো আগে থেকেই সেখান থেকে বালু তোলা শুরু করে এই চক্র। বালু লুট করা হয় ইজারা নেওয়া অংশের বাইরে থেকেও। বেপরোয়া বালু উত্তোলনে ধলাই নদীর সেতু ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে করে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা সেতু বাঁচাতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি করে আসছেন। তাদের ব্যানারে সরাসরি এর জন্য যুবদল নেতা মকসুদ আহমদ ও আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল ওদুদ আলফুকে দায়ী করা হয়।
ইজারাদাররা নিজেরা সরাসরি বালু উত্তোলনে যাননি। তারা বরং বালু ব্যবসায়ীদের জন্য বালু তোলার পরিবেশ অবারিত করে দিয়েছেন। বিনিময়ে প্রতি ঘনফুট বালুতে নিচ্ছেন বেশি টাকা। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ঘনফুটে দেড় থেকে ২ টাকা করে নেওয়ার কথা থাকলেও নিচ্ছেন ১০ টাকা করে।
বেপরোয়া বালু উত্তোলনে ঝুঁকিতে পড়া ধলাই সেতু রক্ষায় এলাকাবাসীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন স্কুল শিক্ষক নিজাম উদ্দিন। তিনি পতাকা নিউজকে বলেন, ‘ইজারাদাররা শুরু থেকেই বেপরোয়া। ইজারার শর্ত অনুযায়ী তারা ধলাই সেতুর ১ হাজার ৬০০ ফুট বা ৫০০ মিটার দক্ষিণ থেকে বালু তোলার কথা। কিন্তু তারা সেতুর একবারে নিচ থেকে শুরু করে রেলওয়ের বাঙ্কার পর্যন্ত এলাকা জুড়ে বালু উত্তোলন করছে। এতে সেতুও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাঙ্কার এলাকা থেকে যে নৌকাগুলো বালু উত্তোলন করে নিয়ে আসে সেতুর নিচে তাদের রাখা নৌকা সেগুলো থেকে কালেকশন (রয়েলিটি) নেয়।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ঘনফুটে বালুতে ইজারাদাররা দেড় টাকা রয়েলিটি নেওয়ার কথা। কিন্তু ‘ধলাই নদী দক্ষিণ বালু মহাল’ ইজারাদাররা নেন ১০ টাকা। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা এসব কাজ করছেন।’

এসব অবৈধ কাজকে বৈধ করতে তারা স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ক্ষেত্রে সদ্য বদলি করা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনানের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তাদের। পাশাপাশি সিলেটের সদ্য বদলি করা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের সঙ্গে আলাদা সখ্যতা থাকার কারণে যুবদল নেতা মকসুদ আহমদ প্রশাসনে বাড়তি প্রভাব রাখতেন। তারা বালু উত্তোলনের জন্য বালুমহাল ইজারা নিয়ে পাথর ব্যবসায়ও জড়িয়ে পড়েন। অন্যদের তুলনায় তারা বেশি দামে পাথর কেনা শুরু করলে-বেশি লাভের লালসায় বারকি শ্রমিকরাও সুনামগঞ্জ থেকে বড় বড় নৌকা এনে পাথর লুট করে তাদের কাছে বিক্রি শুরু করেন। এতে করে দ্রুত পাথর নিঃশেষ হতে শুরু করে।
এ সব অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলার জন্য গতকাল বুধবার দুপুরে যুবদল নেতা মোহাম্মদ মকসুদ আহমদের মোবাইল ফোনে দুই বার কল করার চেষ্টা করেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
ইজারাদারদের পক্ষে পাথর কিনতেন যারা:
বালু মহাল ইজারা নেওয়ার পর উপজেলা পরিষদের সামনে (শিলের ভাঙা) থেকে ধলাই সেতুর নিচ পর্যন্ত বালু উত্তোলন করতে থাকেন ইজারাদাররা। বালু তুলতে গিয়ে নদীতে বালুর সঙ্গে তারা প্রথমে পান চিপ পাথরের (ছোট পাথর) সন্ধান। আরেকটু এগুতেই মিলে যায় সিঙ্গেল বা বুথু (স্থানীয়ভাবে আলু বুথু) পাথর। আরো কিছু দূর এগোতে সাদাপাথর পর্যন্ত বোল্ডার (বড়) পাথর। এভাবেই বালু ও পাথরের পথ একপথে মেলে। শুন্য হয় সাদাপাথর।
ইজারাদার আব্দুল্লাহের ভায়রা ভাই ও স্থানীয় প্রভাশালী হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল ওদুদ আলফুর লোকজন পাথর কেনার কাজ করতেন। এর মধ্যে রয়েছেন আলফু চেয়ারম্যানের মামাত ভাই আকদ্দস আলী ও তার তিন ভাই- আলী আব্বাস, আলী বকস, রুস্তম আলী। এরা এলাকায় বেপরোয়া হিসেবে পরিচিত এবং আলফু চেয়ারম্যানের পেশিশক্তি তারা। এ ছাড়া রয়েছেন কলাবাড়ি এলাকার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলীম উদ্দিনের ভাই বিল্লাল মিয়া, কালা মিয়া, লুৎফুর রহমান, দক্ষিণ বুড়দেওর জুয়েল আহমদ, আঙ্গুর মিয়া। তারা কলাবাড়ি পীরের বাড়ির পাশে নদীর পাড় দখল করে পাথর কিনে মজুদ করে বিক্রি করছেন।

এসব বিষয়ে কথা বলেছেন ও তথ্য দিয়েছেন অন্তত ১৫ জন লোক। কিন্তু ইজারাদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের কেউ গণমাধ্যমে সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি। তবে সরাসরি কথা বলতে রাজি হন সাবেক প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক নিজাম উদ্দিন।
ইজারাদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় করে বেপরোয়া ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে জানিয়ে নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘বালুমহাল ইজারা নেওয়ার পর তারা পাথর ব্যবসায়ও জড়ান। এতদিন বারকি শ্রমিকরা বারকি নৌকায় করে পাথর ও বালু এনে দয়ারবাজার, ১০ নম্বর ঘাটসহ আশেপাশে বিক্রি করতেন। তখন এক নৌকা বালুর ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা এবং এক নৌকা পাথরের বেলায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পেতেন। কিন্তু বালু মহাল লিজ (ইজারা) নেওয়ার পর বদলে যায় পরিস্থিতি। তখন ইজারাদাররা বেশি দামে পাথর কেনা শুরু করেন। এতে করে বারকি শ্রমিকরা সুনামগঞ্জ থেকে অসংখ্য বড় নৌকা নিয়ে আসেন এখানে। বারকি নৌকায় যেখানে ৫০ থেকে ৬০ ঘনফুট পাথর বহন করা যায় সেখানে এসব নৌকায় ১০০ থেকে ৪০০ ঘনফুট পাথর বহন করা যায়। ফলে এক নৌকা বালুতে শ্রমিকরা ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং এক নৌকা পাথরে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পেতে শুরু করেন। ভালো দাম পাওয়ায় শ্রমিকরাও অধিক মুনাফার লোভে দিনরাত বালু, পাথর তুলে বিক্রি শুরু করেন। আর এতে করে কয়েকদিনে সাদাপাথর খালি হয়ে যায়।’
আয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকে সৌদিআরব থেকে চলে এসেছেন এ কাজে জানিয়ে শিক্ষক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘শুনেছি এত আয় দেখে অনেকে সৌদিআরব থেকে এলাকায় ফিরে এসেছেন। কারণ সৌদিআরবে সারা বছরে ২ লাখ রুজি হয় না। সেখানে এখানে ৫ দিনে ১ লাখ টাকা রুজি করা যাচ্ছে।’
পাথর তোলার অভিযোগ অস্বীকার করে ইজারাদার আব্দুল্লাহ আল মামুন গতকাল দুপুরে পতাকা নিউজকে বলেন, ‘বালু মহাল থেকে আড়াই/তিন কিলোমিটার দূরে সাদাপাথর। আর আমি ২২ জুলাই বালু তোলার অনুমতি পাই। এই কয়েক দিনে কীভাবে আমি পাথর শেষ করলাম?’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে সাহাব উদ্দিন পাথর লুট করছেন।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল ওদুদ আলফু পতাকা নিউজকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি বা আমার লোকজনের বালু ও পাথর লুটপাটে জড়িত থাকার অভিযোগ কোনোভাবেই প্রমাণ করতে পারবেন না। কারণ আমার বাড়ি থেকে সাদাপাথরের দূরত্ব ৮ কিলোমিটার।’ তিনিও পাথরলুটে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন বিএনপির নেতা সাহাবউদ্দিনের বিরুদ্ধে।
‘মূল হোতা’ সাহাব উদ্দিন, সাঙ্গপাঙ্গও অনেক:
সাদাপাথরে লুটপাটে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম সাহাব উদ্দিন। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি। মূলত গণঅভ্যুত্থানের দিন থেকেই তার নেতৃত্বে সাদাপাথরে লুটপাট শুরু হয়। এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপি সম্প্রতি তার দলীয় সব পদ স্থগিত করেছে।
সাদাপাথরে লুট হওয়া সব পাথর মজুদ করা হয় ধলাই নদীর দুই পাড়ে। নদীর পশ্চিম পাড়ের পাথর মজুদের স্থানগুলো পাথর ব্যবসায়ীদের ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি নিজের পাথরও সেখানে মজুদ করেন এই সাহাব উদ্দিন। নিজে সরাসরি না থেকে তার ভাই-ভাগ্নে, আত্মীয়, অনুসারীদের দিয়ে পাথর ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ করান তিনি।
এর মধ্যে রয়েছেন সাহাব উদ্দিনের ছায়াসঙ্গী মোজাফর আলী, জাকির হোসেন, জসিম উদ্দিন, ফুপাতো ভাই শৈবাল শাহরিয়ার সাজন, ভাতিজির জামাই সালাউদ্দিন। তার ছত্রছায়ায় লুটপাটে জড়িত রয়েছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া, তার দুই ছেলে রিয়াজ উদ্দিন ও জৈন উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান দুদু, তার ভাই বোরহান ও আজিম উদ্দিন। উপজেলা বিএনিপর সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. দুলাল মিয়া ওরফে দুলা মেম্বার ও তার দুই ছেলে।
পাথর লুটের ঘটনায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্প্রতি দুলাল মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। এ ছাড়া এসেছে উপজেলা যুবদলের সদস্য মানিক মিয়া, যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম, ভোলাগঞ্জ গ্রামের নুর উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের এক ডজন নেতাকর্মীর নাম।
বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামও আছে তালিকায়। পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আলীম উদ্দিনের ভাই আওয়ামীলীগ নেতা মো. বিল্লাল মিয়া, আওয়ামী লীগের কর্মী মনির মিয়া (অন্য মামলায় সম্প্রতি গ্রেপ্তার), হাবিল মিয়া ও সাইদুর রহমান সাদাপাথর ও রেলওয়ের রোপওয়ে বাঙ্কার এলাকায় লুটপাটে জড়িত।
ধলাই নদীর পূর্ব পাড়ের নেতৃত্বে আছেন জেলা যুবদলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক বাহার আহমেদ রুহেল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রজন মিয়া, সদস্য গিয়াস মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা কালাইরাগের বাসিন্দা দুলাল মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহাবুদ্দিন।
পাথরে নাম লেখালেন কর্তারাও
বালু ও পাথর সংশ্লিষ্ট স্থানীয়দের দাবি, ‘প্রশাসন চোখ বন্ধ করে ফেলার পর ইজারা এলাকায় চলে বেপরোয়া লুটপাট। উপজেলা প্রশাসন এদিকে চোখ তুলে তাকাতই না। এই সুযোগে রাতদিন পাথর লুট করে নিরাপদ হয়ে ওঠা এ নৌপথ দিয়ে জুলাইয়ের শেষভাগ থেকে ১৮-২০ দিনে সাদাপাথরের সব পাথর নিঃশেষ করে ফেলেন তারা।’
পাথর লুটপাটের ঘটনায় ১৮ আগষ্ট বদলি করা হয়েছে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে। একই দিন বদলি করা হয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহারকেও ।
পতাকানিউজ/টিআর

