গাজীপুরের শ্রীপুরে অস্ত্রসহ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মোল্লা (৪৮) ও তার ৭ সহযোগীকে আটক করেছে যৌথবাহিনী।
বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামে এনামুলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের মৃত আবদুল আহাদের ছেলে এনামুল হক মোল্লা, তার সহযোগী শওকত মীর, জাহিদ, মোস্তফা, সিদ্দিক, বুলবুল ও তোফাজ্জল।
এনামুল বরমী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সম্প্রতি সৌদি আরব বিএনপির সভাপতি পরিচয়ে এলাকায় সক্রিয় ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনামুল হক মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব চালিয়ে আসছিলেন। একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় তিনি নাম পরিবর্তন করে ২০১৭ সালে সৌদি আরব চলে যান এবং ৭ বছর পর দেশে ফিরে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি গাজীপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রচারণাও চালাচ্ছিলেন।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুনায়েদ বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী এনামুলের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় তিনি তিনতলা বাড়ির ছাদে পানির ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। পরে তাকে সেখান থেকে আটক করা হয়।
পরে এনামুলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৭ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে যৌথবাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন, ৪ রাউন্ড গুলি, ৪টি ওয়াকিটকি, ৪টি বেটন, ২ ইলেকট্রিক শর্ট মেশিন, একটি হ্যামার নেল গান ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে তাদের শ্রীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং গাজীপুর–৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, এনামুল হক মোল্লা একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ২০০১ সালেই তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
পতাকানিউজ/এআই

