চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থানার সামনের সড়কে দুর্ঘটনায় জব্দ একটি কাভার্ডভ্যান গাড়ি রাখা হয়েছে এক মাসের বেশি সময় ধরে। এতে থানার সামনের সড়ক আরও সরু হয়ে গেছে। এ কারণে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারী, বাসিন্দা ও পথচারীদের। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ।
স্থানীয়রা বলছেন, এক মাসের বেশি বড় গাড়িটি রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয়েছে। গাড়িতে সড়ক সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত যানজট তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সবাই দেখেও যেন দেখছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চকবাজার থানার সামনে সড়কে থানার প্রবেশ মুখের বামে একটি বড় কাভার্ডভ্যান গাড়ি রাখা হয়েছে। এতে সড়কের একপাশে বেশি অংশ দখল হয়ে আছে। একদিকের গাড়ি আসলে অন্যদিকের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকছে। থেমে থেমে তৈরি হচ্ছে যানজট। এছাড়া প্রবেশ মুখের ডান পাশে নালা দখল করে বসেছে একাধিক ফল বিক্রেতা।
পথচারী মো. জসিম বলেন, থানার ভেতর অনেক জায়গা। গাড়িটি ভেতরে না রেখে বাইরে রাখায় প্রতিদিন যানজট তৈরি হচ্ছে এবং চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে।
চকবাজার এলাকার বাসিন্দা দীপক চৌধুরী বলেন, সড়কে এভাবে গাড়ি রাখার কারণে জনসাধারণের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। অথচ বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই।
থানার পাশের এক দোকান মালিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন ফাইনাল খেলার আগে গাড়িটি এ সড়কে এনে রাখা হয়। সড়কটি এমনিতে সরু, গাড়ির রাখার কারণে এটি আরও সরু হয়ে প্রতিদিন যানজট তৈরি হচ্ছে। সন্ধ্যায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই রাত পৌন ১১ টায় শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়কের জিইসি এলাকায়কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী ফায়াজ তাজরিয়ান (২৬) নামে এক এনসিপি নেতা নিহত হন। ওই ঘটনায় ঘাতক গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সেই থেকে গাড়িটি রাস্তায় ওপর ফেলে রাখা হয়েছে।

সড়কে গাড়ি রাখার বিষয়ে চকবাজার থানার ওসি মো. নূর হোসেন মামুন পতাকানিউজকে বলেন, ভোগান্তি বাড়লেও কিছু করার নেই আমাদের। কারণ একটি দুর্ঘটনার মামলায় জব্দ করা গাড়ি। মালিকানারও একটা সমস্যা রয়েছে। গাড়িটি বিকল হওয়ায় থানার ভেতর ঢুকানো যাচ্ছে। ভেতরে ঢুকাতে হলে থানার সাইনবোর্ড খুলতে হবে। এটা করতে গেলে অনেক খরচের ব্যাপার। এজন্য অনেকটা বাধ্য হয়ে গাড়িটাকে থানার সামনে চেপে রাখা হয়েছে। তবে অচিরেই গাড়িটি সরানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।
পতাকানিউজ/আরবি

