চট্টগ্রামের বেশিরভাগ মোবাইল মার্কেট বন্ধ ছিল রবিবার সকাল থেকেই। রিয়াজুদ্দিন বাজার, তামাকুমন্ডি লেইন, জুবিলি রোডসহ প্রধান মোবাইল মার্কেটগুলোতে তালা ঝুলতে দেখা গেছে দিনভর। সাধারণ দিনের স্বাভাবিক কোলাহল ছিল না; দোকান মালিক ও কর্মচারীরা দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে শুধু পরিস্থিতি লক্ষ্য করেছেন।
এই অচলাবস্থার মূল কারণ ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর সিদ্ধান্ত। ঢাকায় মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) মানববন্ধন করলেও চট্টগ্রামে কোনো কর্মসূচি হয়নি। তবুও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে দোকান বন্ধ রেখে সমর্থন জানিয়েছেন। রিয়াজুদ্দিন বাজার ও তামাকুমন্ডি লেইনে সকাল থেকে একটি দোকানও খোলা দেখা যায়নি।
রিয়াজুদ্দিন বাজারের এক মোবাইল দোকানের কর্মচারী আশিক বলেন, ‘এনইআইআর চালু হলে চট্টগ্রামে কমপক্ষে দশ হাজার তরুণ চাকরি হারাবে। আমাদের পরিবার এই আয়ের উপরেই চলে। এই নীতি বাস্তবায়িত হলে আমরা সবাই রাস্তায় বসে যাব।’
তামাকুমন্ডি লেইন মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘দেশের মোবাইল বাজার এখন নয়টি বড় সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। তারা বিভিন্ন ভাবে কম দামে ফোন এনে অফিসিয়াল হিসেবে বিক্রি করছে, ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা টিকতে পারছেন না। তার দাবি, বর্তমান এনইআইআর নীতি এই সিন্ডিকেটের স্বার্থই রক্ষা করবে।’ তিনি জানান, সরকারের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে এবং দ্রুত সমাধান না এলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হবে।
রিয়াজুদ্দিন বাজারের আরেক ব্যবসায়ী নবী জানান, ‘ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি। এই নীতি চালু হলে দেউলিয়া হয়ে যেতে হবে। দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন সবই সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। মোবাইল বিক্রি প্রায় বন্ধ।’
এনইআইআর ঘোষণার প্রভাব সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি করেছে। অনেকে উদ্বিগ্ন তাদের বর্তমান ফোন চলবে কি না, কিংবা নতুন নীতিতে তা ব্যবহারযোগ্য থাকবে কি না। অন্যদিকে ব্র্যান্ডেড কোম্পানিগুলো কিছুটা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখাচ্ছে।
কাজির দেউড়ির স্যামসাং শোরুমের ম্যানেজার রহিম উদ্দিন বলেন, ‘ক্রেতারা অফিসিয়াল ফোনের দিকে ঝুঁকছে। এতে বাজারে বৈধ প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং স্বচ্ছ ব্যবসার সুযোগ মিলবে।’
এমবিসিবির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ পিয়াস বলেন, ‘আমরাও এনইআইআর চাই। কিন্তু এমনভাবে নয়, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হয়। নীতিমালায় আমাদের মতামতই নেই, বিটিআরসিও আমাদের চিঠির কোনো জবাব দেয়নি।’
বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, ১৬ ডিসেম্বর থেকে নিবন্ধনবিহীন বা অবৈধভাবে আনা মোবাইল ডিভাইস কোনো নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে পারবে না। ফোন চালু থাকলেও কল, মেসেজ বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে না। এর লক্ষ্য কর ফাঁকি ও চোরাচালান রোধ করা। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা এতে বাজারে বড় সিন্ডিকেটগুলোর প্রভাব আরও বাড়বে।
চট্টগ্রামের বড় মোবাইল মার্কেটগুলো বন্ধ থাকায় প্রশ্ন উঠছে, এনইআইআর বাস্তবায়নের কাঠামো কতটা কার্যকর ও ন্যায়সংগত হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের দাবি না মানলে সামনে আরও কঠোর আন্দোলন হবে।
পতাকানিউজ/এএস/কেএস

