আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য উপকমিটির সদস্য এবং ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়ালের বিভিন্ন স্থানে থাকা জমি, প্লট ও ফ্লাট ক্রোকের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ নির্দেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশ দিয়েছেন। আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন।
দুদকের আবেদন অনুযায়ী, আগারওয়ালার ধানমন্ডির একটি ফ্ল্যাট, ধানমন্ডির একটি বাণিজ্যিক ফ্লোর, দক্ষিণ খানের দুটি প্লট, খিলগাঁওয়ের একটি প্লট, গুলশানের পাঁচটি ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা সিটির একটি দোকান এবং কক্সবাজারের উখিয়া, যশোর ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে থাকা মোট ৩৩টি দলিলের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, দিলীপ কুমার আগারওয়াল অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। এছাড়া তার নিজ নামে ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। এসব অর্থ দুর্নীতি, ঘুষ ও মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত বলে অভিযোগ করেছে দুদক। এই অভিযোগে দুদক ইতিমধ্যে মামলা করে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তকালে যেসব স্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে সেগুলো তিনি অন্যত্র বিক্রি হস্তান্তর বা স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন। এ কারণে মামলার তদন্তের স্বার্থে তা ক্রোক করা প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর আগারওয়ালা ও তার স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন একই আদালত। তারও আগে আগারওয়ালার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। গত বছর ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বেশ কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

