মধ্য ভারতের ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরের উত্তর-পূর্বে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ও মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর যাত্রীবাহী ট্রেনটি পিছন দিক থেকে মালবাহী ট্রেনকে ধাক্কা দিলে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা সঞ্জয় আগরওয়াল জানিয়েছেন, যাত্রীবাহী ট্রেনের একটি বগি মালবাহী ট্রেনের একটি ওয়াগনের উপর উঠে গিয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর উদ্ধারকারী দল বগিটিকে নিচে নামায় এবং লোহার কাটার দিয়ে কেটে খুলে ভেতরে তিনটি মৃতদেহ খুঁজে পায়। এর আগে আরও ৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় ঘটনাস্থল থেকে।
নিহতদের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেনের চালকও ছিলেন। নারী সহ-চালক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে আগরওয়াল জানান। প্রায় ২০ জন এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এবং স্থানীয় হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে।
এক বিবৃতিতে ভারতীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেউ সাই শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনা নতুন নয়। প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ দেশটির ১৪ হাজার ট্রেনে করে ৬৪ হাজার কিলোমিটার (প্রায় ৪০ হাজার মাইল) রেলপথে যাতায়াত করেন। সরকার রেল নিরাপত্তা উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিলেও প্রতি বছর শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটে যার অনেকগুলোই প্রাণঘাতী। এসব দুর্ঘটনার জন্য প্রায়ই মানবীয় ভুল বা পুরোনো সিগন্যালিং ব্যবস্থাকে দায়ী করা হয়।
২০২৩ সালে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ওডিশা রাজ্যে একটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৮৮ জন নিহত হয়েছিল, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম মারাত্মক ট্রেন দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
পতাকানিউজ/টিআইএ

