দুই ভাইকে হত্যা করতে এলোপাতাড়ি ৪৮টি গুলি করা হয়। এর মধ্যে ৩৫টিই বিদ্ধ হয় শরীরে। ফলে দুই ভাইয়ের শরীর অনেকটা ঝাঁঝরা হয়ে গেছে।
সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জাফরাবাদ এলাকার চৌহান বাঙ্গার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন মোহাম্মদ ফাজিল (৩১) ও মোহাম্মদ নাদিম (৩৩)। পুলিশ জানায়, রাতের খাবারের জন্য মায়ের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর স্কুটারে করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা তিনজন তাঁদের ওপর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই ফাজিল মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় নাদিমকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা উন্নতমানের বিদেশি পিস্তল ‘জিগানা’ ব্যবহার করে। ফাজিলের শরীরে ২০টি এবং নাদিমের শরীরে ১৫টি গুলি লাগে। ঘটনাস্থল থেকে তিন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, ব্যবসা-সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সন্দেহভাজনদের একজন আসাদ কুরেশি নিহত দুই ভাইয়ের ফুফাতো ভাই। ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসাদ কুরেশি আগে একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি ছিলেন এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। তার ধারণা ছিল, নাদিম পুলিশকে তথ্য দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করিয়েছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, আসাদ একাধিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং কুখ্যাত হাশিম বাবা গ্যাংয়ের সদস্য ববি কবুতরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
নিহতদের বড় ভাই ওয়াসিম বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে তিনি আসাদকে চিনতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘আসাদ আমাদের ফুফুর ছেলে। আগে হুমকি দিয়েছিল, পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মিটমাট হয়েছিল। তবু সে আমার ভাইদের হত্যা করল।’ তিনি আরও জানান, নাদিম শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। পাঁচ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে যাওয়ার পর তিনি হাঁটতে পারতেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, নাদিম জ্যাকেটের ব্যবসার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। ঘটনার পর জাফরাবাদ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে ছয়টি বিশেষ দল মাঠে নামানো হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা নিয়ে নতুন কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পতাকানিউজ/এআই

