সাবেক দুই এমপিকে ঘিরে জমে উঠেছে দুই দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচন। এদের সাথে নবীন দুই প্রার্থীও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন। কক্সবাজারের ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় এখানকার রাজনীতিতে রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য ও চ্যালেঞ্জ। বিদ্যুৎ, বেড়িবাঁধ, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান এসব ইস্যুই এ আসনের ভোটের সমীকরণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে।
এ পর্যন্ত আসনটিতে ৪টি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন। এরা হলেন- বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ.এইচ.এম হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক।
আসনটি মূলত দ্বীপকেন্দ্রিক জনপদ। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা কুতুবদিয়া এবং পাহাড়–সাগর–চর মিলিয়ে গঠিত মহেশখালী উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভাঙন ও অবকাঠামোগত সংকটের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী।
কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কার্যালয়েরে তথ্য মতে, এই দুই উপজেলায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ১০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৯৬৫ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৪৩ জন। যেখানে রয়েছে ১১৮টি কেন্দ্র। যার ৮১টি মহেশখালী ও ৩৭টি কুতুবদিয়ায়।
সাধারণ ভোটারদের মধ্যে, কক্সবাজার–২ আসনে সাবেক দুই সংসদ সদস্য হওয়ায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে মাঠে সক্রিয়। বিশেষ করে মহেশখালীতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে জাতীয় দৃষ্টিও এ আসনটিতে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৪ হাজার ২৭১ ভোট। ওই নির্বাচনে পরাজিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনসারুল করিম পেয়েছিলেন ৮৬ হাজার ৯৪৪ ভোট। এর আগে ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটি ছিল বিএনপির দখলে। ওই নির্বাচনে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩ হাজার ৫০৩ ভোট। আর পরাজিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছিলেন ৪৯ হাজার ১৯০ ভোট। এর আগেও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি পান ৪৪ হাজার ৪৪৫ ভোট। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৩২ হাজার ৪৪৩ ভোট। এর আগে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আসনটি ছিল বাকশালের দখলে। ওই নির্বাচনে বাকশালের প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক বিএ পেয়েছিলেন ২৫ হাজার ৭২৭ ভোট। আর পরাজিত জামায়াত প্রার্থী শাফি উল্লাহ পেয়েছিলেন ২৩ হাজার ৩৪৫ ভোট।
মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বেড়িবাঁধ ও ভাঙন। কুতুবদিয়ায় একের পর এক ইউনিয়ন সাগরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এই বাস্তবতা ভোটারদের ক্ষোভে রূপ নিচ্ছে। পাশাপাশি দ্বীপে স্থায়ী বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ নৌযোগাযোগ এখনো বড় চাহিদা।
পতাকানিউজ/কেএস

