বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন ও তার ছেলে মীর মোহাম্মদ হেলালউদ্দিনকে আর সাজা খাটতে হবে না। দুর্নীতির পৃথক মামলায় তাদেরকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ পৃথক রায়ের তাদের খালাস দেন।
তাদের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, প্রত্যেকের আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের সাজার রায় বাতিল করা হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাদের নির্দোষ ঘোষণা করেছেন।
আদালতে বিএনপি নেতাদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান বিশ্বাস রায়হান।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মীর নাসির ও তার ছেলে মীর হেলালের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৬ মার্চ গুলশান থানায় দুদক মামলা করে। এ মামলায় বিশেষ জজ আদালত একই বছরের ৪ জুলাই মীর নাসির উদ্দিনকে ১৩ বছর এবং মীর হেলালকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়।
এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হলে হাইকোর্ট ২০১০ সালের ১০ আগস্ট মীর নাসির এবং একই বছরের ২ আগস্ট মীর হেলালের সাজা বাতিল করে রায় দেয়। পরে হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে আপিল করে দুদক। ২০১৪ সালের ৩ জুলাই আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করে। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে বাবা–ছেলের করা পৃথক আপিল হাইকোর্টে পুনরায় শুনানির নির্দেশ দেওয়া হয়।
আপিলের ওপর পুনরায় শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট রায় দেয়। এই রায়ে মীর মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিনকে ১৩ বছরের এবং মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে তিন বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে তারা আপিল করেন। ওই আপিলে তাদের খালাস দেয়া হল।
অন্যদিকে, ৪ কোটি ৯৬ লাখ ১১ হাজার ৯১৬ টাকার সম্পত্তির হিসাব ও আয়ের উৎস গোপন করার অভিযোগে ২০০৭ সালের মার্চে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক শাহরিয়ার চৌধুরী।
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত এ মামলার রায়ে টুকুকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে হাইকোর্ট ২০১১ সালের ১৫ জুন তাকে খালাস দেয়।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি খালাসের রায় বাতিল করে ফের শুনানির আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
আপিল বিভাগের এ রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে আবেদন করেন টুকু। পরে সে আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। ফলে হাইকোর্টের সাজা বহাল থাকে। পরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আপিল করেন। ওই আপিল শুনানি শেষে তাকে খালাস দেওয়া হলো।
পতাকানিউজ/এআই

