অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমানকে ৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করলে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহা. আবু তাহের এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন পাপিয়া ও তার স্বামী। রায় শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত আরও উল্লেখ করেন, এই মামলায় পূর্বে তারা যতদিন কারাভোগ করেছেন, তা সাজা মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
গত ৭ আগস্ট মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। এর আগে ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। মামলাটি করেন দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ।
দুদকের তদন্তে উঠে আসে, ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাপিয়া রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলের ২৫টি রুমে অবস্থান করেন। এ সময়ে রুম-নাইট, খাবার, মদ, স্পা, লন্ড্রি, মিনি বারসহ মোট ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকা নগদে পরিশোধ করেন। একই সময়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার কেনাকাটা করলেও কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি। তদন্তে মোট ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ মেলে।
এ ছাড়া ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাসাভাড়া বাবদ ৩০ লাখ টাকা, গাড়ির ব্যবসায় এক কোটি টাকা ও নরসিংদীর কেএমসি কার ওয়াশ সলিউশনে ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগের উৎস পাওয়া যায়নি। তাদের নামে ব্যাংকে থাকা ৩০ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৮ টাকাও অজানা উৎসের বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
র্যাবের অভিযানে তাদের বাসা থেকে ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং মফিজুর রহমানের নামে ২২ লাখ টাকার গাড়ি জব্দ করা হয়। এরও কোনো বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হন তারা।
পাপিয়ার বিরুদ্ধে এর আগে আরও কয়েকটি মামলায় সাজা হয়েছে। গত ২৫ মে অর্থপাচারের মামলায় তিনি ৪ বছরের কারাদণ্ড পান। ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর অস্ত্র মামলায় তাকে ২৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি র্যাব-১ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাপিয়া, তার স্বামী ও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে ৭টি পাসপোর্ট, নগদ টাকা, জাল নোট, বৈদেশিক মুদ্রা, মদ, পিস্তল, গুলি ও ব্যাংক কার্ড উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও অর্থপাচারসহ ছয়টি মামলা হয়। এর মধ্যে তিনটির রায় ঘোষণা হয়েছে।
পাপিয়া একসময় নরসিংদী যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পতাকানিউজ/জেএ/এনটি

