জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) করা মামলায় কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে আরও ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে বদির উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমান আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনজীবী রেজাউল করিম রনি। তিনি বলেন, ‘এ মামলায় আগেও ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছিল। আজ, বুধবার আরও ৮ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।’
এর আগে আজ সকালে বিশেষ নিরাপত্তায় আসামি বদিকে ঢাকার কাশিমপুর কারাগার থেকে চট্টগ্রাম আনা হয়। এরপর পুলিশ প্রহরায় তাকে এজলাসে আনা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে ফের পুলিশ প্রহরায় নিয়ে যাওয়া হয়।
২০০৭ সালে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানায় আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, স্ত্রী শাহীন আকতার ও মেয়ে সামিয়া রহমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ মোট এক কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৭ টাকা। কিন্তু দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ও ২০০৬ থেকে ২০০৭ কর বর্ষের রিটার্নে বদি যথাক্রমে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৫৬ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা ও ৩১ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮০ টাকা। সে হিসেবে বদি সর্বমোট ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৭ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। যা তিনি অবৈধ উপায়ে অর্জন করেছেন। আইন অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ২৪ জুন আদালতে এ মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। তবে এ মামলায় চার্জশিট জমা দিলেও বদির আবেদনে মামলাটি দীর্ঘদিন স্থগিত রেখেছিল আদালত। উচ্চ আদালত ২০১৭ সালে এ স্থগিতাদেশ তুলে নেয়। এরপর অভিযোগ গঠন হতে লেগেছে আরও তিন বছর। অর্থাৎ প্রায় ১৩ বছর পর ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এ মামলায় বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারিক কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। পরে ১৫ অক্টোবর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেন আদালত।
পতাকানিউজ/আরএস/আরবি

