সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক, শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা, বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ঢাকা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানকে ১৩৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৬২০ টাকা আত্মসাতের মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সালমান এফ রহমানকে রিমান্ডে নেয়ার নির্দেশ দেন।
ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও আলিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া এলসি খুলে জনতা ব্যাংক পিএলসি, লোকাল অফিস, ঢাকা থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় দুদক ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত বছর ৩ নভেম্বর সালমান এফ রহমান ও বেক্সিমকো গ্রুপের কর্মকর্তা এবং অন্যদের বিরুদ্ধে দুদক সদর দপ্তরে এ মামলা করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, স্কাইনেট এ্যাপারেলস লিমিটেড নামীয় একটি নবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান যার নামে আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে ১৩৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৬২০ টাকা আত্মসাৎ করে ওই টাকা নিজেদের মধ্যে হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে লেয়ারিং করেছেন মর্মে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হওয়ায় সূত্রস্থ মামলাটি রুজু করা হয়।
রিমান্ড আবেদনের তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ারসহ আরও অনেকে এ মামলার আসামি। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও প্রকৃত মদতদাতাদের সম্পর্কে তথ্য উদঘাটন। আত্মসাতকৃত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ বের করা, পাচার সংক্রান্ত তথ্য উদঘাটন এবং পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য সালমান এফ রহমান কে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে ছাত্র ও গণ আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১৩ আগস্ট সালমান এফ রহমানকে ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দফায় দফায় রিমান্ডে নেয়া হয়।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

