বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দুর্নীতিতে দেশে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল এবার জনগনের কাছে ‘লাল কার্ড’ পাবে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘শীতে মাথা গরম করলে চৈত্র মাসে কি করবেন? চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।’’ তিনি মা-বোনদের উপর কোনো প্রকার নির্যাতন বা অপমান মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন। ‘‘বীরেরা পালায় না, তারা রুখে দাঁড়ায়,’’ যোগ করেন তিনি।
জামায়াত নেতা বলেন, ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে এবং বেকার ভাতা দিয়ে কাউকে অপমান করা হবে না। কিছু গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে জামায়াত ক্ষমতায় এলে মা-বোনদের ঘরের বাইরে যেতে দেবে না—এটি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। বরং দলের লক্ষ্য মা-বোনদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নারীর ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘নারীরা এখন বদলাচ্ছে, ভোট এখন তাদের দৃষ্টির দিকে চলে আসছে।’’ ২৪ আগস্ট ২০২৪ সালের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনে জামায়াত বিজয়ী হয়, সেই বিজয় ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান দেশের আলেম ও উলামাদের নিয়েও ছড়িয়ে দেওয়া গুজবের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‘জামায়াত কখনো কাওমী মাদ্রাসার বিপক্ষে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না।’’ তিনি নির্বাচনী জনসভার নেতাকর্মীদের সতর্ক করেন যেন কেউ দেশের অর্জিত বিজয় ছিনিয়ে নিতে না পারে।
তিনি ভোট প্রদান প্রক্রিয়া নিয়ে বলেন, ‘‘প্রথমে কেন্দ্রে গিয়ে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে, তারপর জোটের প্রতিকে ভোট দেওয়া হবে।’’ ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় না হলে জনগন কোনো কথা বলতে পারত না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান ১৬ বছরের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ হত্যার ইতিহাস তুলে ধরে জানান, ক্ষমতায় এলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্নীতিরোধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি দেশের পাশ্ববর্তী একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বও উল্লেখ করেন এবং ক্ষমতায় এলে দেশের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
একসময় ফেনীকে সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘এ জনপদের মানুষ আর সেই পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চায় না।’’ পাশাপাশি ফেনীসহ দেশের সব জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলা জামায়াতের আমীর মুফতি আবদুল হান্নান। এতে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এটিএম মাছুম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ফেনী-১ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন, ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী ডাক্তার ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-২ আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূইয়া ও একেএম সামছুদ্দিন।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘‘দেশে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বেড়ে গেছে। আমরা চাঁদা চাই না, বরং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনগনকে সেবা দিতে চাই।’’
ফেনী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এছাড়া ফেনীর তিনটি আসনে ১১ দলীয় প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান।
-পতাকানিউজ/এএএম

