সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও এমপি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ নিজের এলাকা বা সংসদীয় আসনে গণসংযোগ শুরু করেছেন। মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর দুপুরে কক্সবাজার -১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের চকরিয়ায় পৌঁছেই ছুটে যান গ্রামীণ জনপদের পাড়াগাঁয়ে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি।
আজ তিনি ঢাকা থেকে বিমানে কক্সবাজার পৌঁছেন। সেখান থেকে ছুটে আসেন চকরিয়ায়। শুরুতে খুটাখালীর মরহুম পীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল হাই (র.)’র কবর জিয়াত করেন। এরপর উপজেলার খুটাখালী, ডুলাহাজারা ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
এসময় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্বৈরাচারী হাসিনার সরকার মানুষের ভোটের ও বাক-স্বাধীনতার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টি করেছিল। দেশকে লুটেপুটে খেয়ে সাধারণ মানুষের টাকা পাচার করে বিদেশে জমিয়েছিল। চকরিয়া-পেকুয়াসহ দেশের সর্বত্র ডাকাত লুটেরাদের রামরাজত্ব কায়েম করেছিল। তাই জনগণ আন্দোলন করে তাদের বিরুদ্ধে। এতেই সদলবলে হাসিনাকে পালাতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করলে ধনী-গরীব বৈষম্য দূর করে দেশ ও মানুষের উন্নয়ন করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে মডেল ও অনুকরণীয় দেশে রূপান্তর করা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. হাসিনা আহমেদ, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সালাহউদ্দিন আহমদ এক সপ্তাহ নিজ জন্মস্থান পেকুয়ায় অবস্থান করবেন। এসময় চকরিয়ার একটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন এবং পেকুয়ার ৭টি ইউনিয়নের নির্বাচনী গণসংযোগ করবেন।
প্রসঙ্গত, সাবেক তিন বারের সংসদ সদস্য ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বিগত সরকারের আমলে গুম হয়ে ভারতের শিলংয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় সেখানকার প্রশাসনের হাতে বন্দি হন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে জিতে ৯ বছর পর নিজ দেশে ফেরেন। এরপর থেকে দলের অপরিহার্য নেতা হয়ে উঠেন। তার বর্ণাঢ্য জীবনে আইনজীবী, বিচারক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএসর দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলে অন্তর্ভুক্ত হয়েই রাজনৈতিক দীক্ষা অর্জন শুরু করেন। পরে দলের যুগ্ন আহ্বায়ক নির্বাচিত হন তিনি।
পতাকানিউজ/এমজেসি/আরবি

