বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ দেশজুড়ে শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় এ ভোটগ্রহণ। চলবে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ছুটছেন ভোটাররা।
এদিকে ভোট সুষ্ঠু, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ভোটকেন্দ্রের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ভোট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ, ১ লাখ সেনা সদস্য, ৩৭ হাজার বিজিবি, ৯ হাজার র্যাব, এবং সাড়ে পাঁচ লাখ আনসার ভিডিপি সদস্য মাঠে রয়েছেন। এছাড়া দায়িত্ব পালনে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ভোটে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত ১৩–১৮ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও সিসিটিভি, বডি ক্যামেরা এবং ড্রোন দিয়ে ভোটকেন্দ্র সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট সংসদীয় আসন ৩০০টি। এর মধ্যে শেরপুর জেলার একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত হয়েছে। ওই আসন ছাড়া ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এবার সারা দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন।
নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী। এর মধ্যে প্রতি আসনে একজন করে নির্বাচিত হবেন ৩০০ জন (১ আসনে ভোট স্থগিত)। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৯৫৮টি। এর মধ্যে ডাকযোগে ভোটকেন্দ্র ২৯৯টি।
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টানা চার দিনের ছুটি শুরু হয়েছে ১১ ফেব্রুয়ারি, বুধবার থেকে। ছুটি শেষ হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি, শনিবার।
এছাড়া নির্বাচন ও পূজার ছুটি মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি থাকবে টানা পাঁচ দিন। বুধবার থেকে সেই ছুটিও শুরু হয়েছে। ছুটি শেষ হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি।
ভোট উৎসবে যোগ দিতে শহর ছেড়ে বিপুল সংখ্যক ভোটার ইতিমধ্যেই শহর ছেড়েছেন। অর্থাৎ, নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছে গেছেন ভোটাররা।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে নির্ভয়ে ভোট উৎসবে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পতাকানিউজ/আরবি

