ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে দেশের ভূমি (দনবাস অঞ্চল) ছেড়ে দেয়ার রাশিয়ার প্রস্তাব মানবে না বলে আগাম জানিয়েছেন। আগামী শুক্রবার আলাস্কায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বৈঠকের আগে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বুধবার, ১৩ আগস্ট বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দনবাস অঞ্চল বিষয়ে ভবিষ্যতে আবার হামলার জন্য রাশিয়া অজুহাত দেখাতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এর আগে, ট্রাম্প শান্তি চুক্তিতে ‘অল্প ভূখণ্ড বিনিময়ের’ বিষয়টি থাকতে পারে বলে জানিয়েছিলেন। ধারণা করা হয়, দনবাসের যে অংশ এখনো ইউক্রেন নিয়ন্ত্রণ করছে তা ছেড়ে দেয়ার দাবি জানাতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
বুধবারও রাশিয়ার সেনাবাহিনী ইউক্রেনে অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় দশ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অগ্রসর হয়েছে। জেলেনস্কিও এটি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেন, এসব জায়গায় হামলায় যারা জড়িত তাদের কিয়েভ ধ্বংস করে দেবে।
রাশিয়ার অগ্রসর হওয়ার বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিয়ে জেলেনস্কি বলেন, এটি পরিষ্কার যে মস্কোর লক্ষ্য ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাতের আগেই একটা বিষয় প্রচার করা যে ‘রাশিয়া সামনে অগ্রসর হচ্ছে আর ইউক্রেন পিছু হটছে’।
যদিও শুক্রবার ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের সময় রাশিয়া কোন কোন দাবি তুলবে তা এখনো জানানো হয়নি। দনবাস-লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চল ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে। এসব অঞ্চলের একাংশ ২০১৪ সাল থেকে রাশিয়া দখল করে আছে। মস্কো এখন লুহানস্ক প্রায় পুরোটা এবং দোনেৎস্কের অন্তত ৭০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জেলেনস্কি বলেন, শুধু দনবাস কেন, দেশের যে কোন ভূমি ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব ইউক্রেন প্রত্যাখ্যান করবে। ‘আমরা যদি আজকে দনবাস ছেড়ে দেই তাহলে রাশিয়ানদের জন্য আরও হামলার পথ খুলে দেয়া হবে, বলেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতের ভাষণে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের ঝাপরজ্জিয়া, পকরোভস্ক ও নভোপাভলভ এলাকায় নতুন করে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ভূখণ্ড বিনিময়ের কথা বলার পর কিয়েভসহ ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে মস্কো জোর করেই ইউক্রেনের সীমান্ত নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে। রাশিয়া এখন ইউক্রেনের অন্তত ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে।
ওদিকে হোয়াইট হাউজ মঙ্গলবার বলেছে, আলাস্কা বৈঠকে ট্রাম্প শুনবেন এবং একই রুমে বসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কিভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা যায় তার সেরা ধারণাটা দিবেন।
এর আগ ট্রাম্প যা বলেছেন তাতে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে শান্তির কাছে নিয়ে আসার প্রত্যাশা কিছুটা কমে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে তিনি যখন শীর্ষ বৈঠকের ঘোষণা দেন তখন ট্রাম্পকে ইতিবাচক মনে হয়েছিলো যে বৈঠক থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ আসতে পারে।
তবে আলোচনা থেকে কিয়েভের জন্য ইতিবাচক কিছু আসার বিষয়ে আবারো গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এর আগে বলেছিলেন, কিয়েভের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সমঝোতা হবে ‘মৃত সিদ্ধান্ত’।
সূত্র: বিবিসি
পতাকানিউজ/এসজিএন

