বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লায়ন আসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘এক সময় হিন্দুরা মনে করতো তারাই সংখ্যালঘু। আসলে সংখ্যালঘু বলে কোনো কনসেপ্ট নেই। পুরো পৃথিবীর মানুষ যদি হিসাব করা হয়, তাহলে কোনো ধর্মই ২৫ শতাংশের বেশি নেই।’
তিনি ভারতের প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের জীবনী তুলে ধরে বলেন, ‘ভারত হিন্দু অধ্যুষিত রাষ্ট্র। ১২০ কোটি নাগরিকের মধ্যে এপিজে আব্দুল কালাম সংখ্যালঘু মুসলিম ধর্ম থেকে তিনি ভারতের মহানায়ক বনে গেলেন। ভারতের এমন কোনো পুরস্কার নেই তিনি পাননি। এতে আমরা শিক্ষা নিতে পারি যে সংখ্যালঘু কনসেপ্টটি মুখ্য নয়, মুখ্য হচ্ছে মানুষের জ্ঞান-গরিমা।’
মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে মেধা অন্বেষণ উৎসব ও পুরস্কার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
লায়ন আসলাম চৌধুরী অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার সন্তানকে প্রতি সপ্তাহে একদিন জড়িয়ে ধরুন। এতে সন্তানের মায়া মমতা বৃদ্ধি পাবে। সন্তান পিতামাতার কথা শুনবে। এতে সন্তান মানুষের মতো মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দশম শ্রেণি পর্যন্ত আপনার সন্তানের হাতে মোবাইল ফোন দিবেন না। একান্তই যদি কারো সাথে কথা বলতে হয়, আপনাদের সামনে কথা বলতে বলবেন।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসলাম চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিয়ে গর্ব করার মতো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সময়ের দাবি। এই জন্য সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। স্বপ্ন অনেক বড় থাকবে। ধাপে ধাপে এ লক্ষ্য অর্জনে কঠিন দৃঢ় প্রত্যয়ী মনোভাবে এগিয়ে যেতে হবে। সফলতা সহজলভ্য কিছু নয়, প্রয়োজন সদিচ্ছা এবং লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রবল ইচ্ছা শক্তি। এখানে পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা বাধা হয় না।’
এর আগে, সকালে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই, আগ্রহ বাড়ানো এবং মানোন্নয়নে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ২০টি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ৬৯১ শিক্ষার্থী ‘মেধা অন্বেষণ’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখে।
কাঞ্চননগর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও চট্টগ্রাম কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মুফিদুল ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।
প্রকৌশলী মোবারক হোসাইন রুবেলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নজমুল আজম চৌধুরী, প্রধান শিক্ষক আব্দুর সাত্তার, মহসিন কবির চৌধুরী, আনোয়ারুল আজিম, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হান্নান চৌধুরী ও সম্পাদক শফিউল আজম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার এবং মেধাবৃত্তির সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের উচ্ছ্বাস। আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অভিভাবকরা বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করতে হবে।
পতাকানিউজ/ওএআর/এমওয়াই

