প্রাণ বাঁচাতে কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদ (১৭) উঠে গিয়েছিল আট তলা ভবনের ছাদে। কিন্তু খুনিদের নাগাল থেকে নিজকে রক্ষা করতে পারেননি। তাকে ফেলে দেওয়া হলো ভবনের লিফটের ফাকা গর্তে। অথচ, আত্মরক্ষার্থে ওই ভবনে উঠার আগে নিচের গেট বন্ধ করে দিয়েছিলেন সাজিদ। কিন্তু ধাক্কাধাক্কির কারণে গেট খুলে দেন নিরাপত্তা প্রহরী। শেষে প্রাণ হারান এই কলেজ ছাত্র।
নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ছড়িয়ে পড়েছে। গত রোববার রাতে এই ঘটনা ঘটে। পরে আশফাককে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আশফাক কবির নগরের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়ায় হলেও নগরের বাকলিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মোবাইল ফোনে ডেকে নেন বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার মোড়ে। সেখানে পৌঁছালে আইমন, অনিক, রানা মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে। ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তাকে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
একপর্যায়ে তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে আশফাক কৌশলে ভবনের ভেতরে ঢুকে গেট বন্ধ করে দেন এবং দৌড়ে অষ্টম তলায় উঠে যান। তবে হামলাকারীরা গেটে চাপ সৃষ্টি করলে নিরাপত্তাকর্মী গেট খুলে দেন। এরপর তারা অষ্টম তলায় গিয়ে আশফাককে বেধড়ক মারধর করে এবং শেষ পর্যন্ত আটতলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে দেয়।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আজাদ জানান, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হত্যার পেছনে কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্ব রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বলেন, তার ছেলে কোনো অপরাধ বা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। ‘কেন আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করা হলো, তা দ্রুত বের করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে’-দাবি করেন কান্নারত বাবা।
-পতাকানিউজ

