বিশ্বের ইতিহাসে দ্রুততম মানব তিনি। যার রেকর্ড এখনো অতিক্রম করতে পারেনি কেউ। অথচ সেই উসাইন বোল্টেরই নাকি আর দৌড়াতে ভালো লাগে না। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গেলে হাপিয়ে যান। অবসরে ঘরে শুয়ে বসেই দিন কাটে জ্যামাইকার এই স্প্রিন্ট সুপারস্টারের। এ যেন আফ্রিকান সিংহের মাংসে অরুচি।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্যা টেলিগ্রাফকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন উসাইন ৮বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ান বোল্ট খেলা ছাড়ার পর অ্যাথলেটিকসের আর কোন বড় আসরে খেলা দেখতেও যাননি। বোল্ট। তবে আবারও দৌড় শুরু করতে চান তিনি। অন্তত শারীরিকভাবে ফিট থাকার জন্য।
২০১৭ সালে খেলা ছাড়ার পর এবারই প্রথম জাপানের টোকিওতে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ দেখতে গেছেন বোল্ট। যথারীতি জাপানের দর্শকরা বোল্টকে দেখে উল্লাসে ফেটে পড়ে। কিন্তু নিজ দেশে গতি দানবের জীবন এখন পাদপ্রদীপের আলো থেকে অনেক দূরে।
সকালে বাচ্চারা স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হবার সময় ঘুম থেকে ওঠেন উসাইন বোল্ট। এরপর কাজ না থাকলে ঘরেই আরাম করেন। ইচ্ছে হলে কোন কোন দিন ব্যয়াম করেন। না হলে সিরিজ দেখেন। বাচ্চারা স্কুল থেকে ফিরলে তাদের সাথে সময় কাটান। তারপর বাড়িতেই থাকেন বোল্ট। সময় কাটে সিনেমা দেখে আর লেগো খেলে।
৩৯ বছর বয়সী বোল্টের জীবন এখন স্ত্রী আর তিন ছেলেমেয়েকে নিয়েই। দৌড়ের প্রসঙ্গ আসতেই হাসতে হাসতে তিনি বলেন, এখন আমার দৌড়াতে ভালো লাগে না। তবে আমার মনে হয় আমাকে দৌড়ানো শুরু করতে হবে। কারণ যখন আমি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠি আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
২০০৯ সালে উসাইন বোল্ট ১০০ মিটার দৌড়ান ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডে। যা এখনো অধরা এক বিশ্ব রেকর্ড। তারপর কেটে গেছে প্রায় ১৬ বছর। সেই গতি এখনো অতিক্রম করতে পারেনি কেউ।
গত রবিবার জাপানের মাঠে ১০০ মিটারের ফাইনালের আগে উসাইন বোল্টকে দেখে উল্লাসে ফেটে পড়েছিল স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শক। কিন্তু এখন এসব কিছু থেকে বহু দূরে অনেকটা নিরবেই সংসার জীবন কাটাতে বেশি পছন্দ করেন থান্ডারবোল্ট নামে পরিচিতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ স্প্রিন্টার উসাইন সেন্ট লিও বোল্ট।
পতাকানিউজ/এসজিএন

