ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জামিরদিয়া ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় লোকজন বিক্ষোভ করে তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টায় জামিরদিয়া ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডের কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত দিপু চন্দ্র দাস (২৭) ওই কারখানার একজন শ্রমিক ছিলেন। তিনি তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। এ ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিপু ওই কারখানায় লিংকিং সেকশনে কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারখানার ভেতর এক শ্রমিক দিপুর বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের কথা জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ও কারখানার কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে লোকজন জড়ো হয়ে কারখানার ফটক ভাঙার চেষ্টা করেন। তখন কারখানার নিরাপত্তাকর্মীরা দিপুকে বাইরে পাঠিয়ে দেন। উত্তেজিত জনতার মারধরে দিপু ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে কারখানার সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকে মরদেহের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাত পৌনে ১১টায় মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর বাইরে কোনো কিছু উদ্ঘাটন করতে পারিনি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’
এদিকে এ হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ‘ময়মনসিংহে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে নিন্দা জানাই। নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই। এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
পতাকানিউজ/আরবি

