এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় করা মামলায় বাংলাদেশ এ দলের ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হানকে জামিন দিয়েছেন আদালত। রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির এ আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসাইন জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই মো. সামিউল ইসলাম গত বছর ৩০ নভেম্বর তোফায়েল আহমেদ রায়হানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী তরুণীকে তোফায়েল একাধিবার ধর্ষণ করেছেন বলে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আর এ কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে।
এর আগে গত বছর ১ আগস্ট ভুক্তভোগী এক তরুণী বাদী হয়ে গুলশান থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের জানুয়ারিতে আসামি তোফায়েল আহমেদ রায়হানের সঙ্গে বাদীর ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর থেকে তারা ফেসবুক মেসেঞ্জারে নিজেরা কথা বলতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হলে আসামি তোফায়েল ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রথমে তরুণী রাজি ছিলেন না। তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করান তোফায়েল। পরে ৩১ জানুয়ারি বাদীকে স্ত্রী পরিচয়ে গুলশানের একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেন রায়হান। পরে তাকে আরও একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি। এরপর থেকে ওই তরুণী বিয়ের কথা বললে রায়হান অস্বীকৃতি জানান।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনাটি মামলার ছয় মাস আগে হয়েছে বিধায় কোনো আলামত জব্দ করা সম্ভব হয়নি। মামলার বাদী নিজেও কোনো আলামত উপস্থাপন করতে পারেননি। হোটেলে রক্ষিত রেজিস্ট্রার বুকের গেস্ট বুকিং সংক্রান্ত রেজিস্ট্রেশন স্লিপ, তরুণী ও আসামির পাসপোর্ট কপি জব্দ করা হয়। ডিএনএ রিপোর্টে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সার্বিক তদন্তে প্রথম দিনের ঘটনা, হোটেল বুকিং কপি, ধর্ষণের মেডিক্যাল রিপোর্টসহ অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় আসামি তোফায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়।
প্রসঙ্গত, মামলার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর আসামি তোফায়েলকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে এ জামিন শেষ হওয়ার আগেই ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ নির্দেশ দেয়া হয়।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

