৮ বছর পর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল ঘোষিত দলের সম্ভাব্য ২৩৭ প্রার্থীর তালিকা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অনুমোদন পায় এই তালিকা।
পুরনোদের সঙ্গে নতুনদের ভারসাম্য
তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি এবার অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি নতুন মুখদেরও ব্যাপকভাবে সুযোগ দিয়েছে। ঘোষিত ২৩৭ প্রার্থীর মধ্যে ১৫১ জন আগেও নির্বাচনে লড়েছেন। বাকিদের ৮১ জন একেবারে নতুন- যারা প্রথমবারের মতো ধানের শীষ প্রতীকে ভোটের মাঠে নামছেন।
এই নতুনদের মধ্যে আছেন সাবেক ছাত্রনেতা, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রবাসী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং প্রয়াত বিএনপি নেতাদের সন্তান-সন্ততিসহ তৃণমূল পর্যায়ের সক্রিয় নেতারা।
কেন্দ্র থেকে তৃণমূল, সব স্তরেই নতুন মুখ
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বলছে, তরুণ ও পেশাজীবী শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে এবার প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা-৬ আসনে প্রার্থী হয়েছেন প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইসরাক হোসেন। খুলনা-৬ থেকে মনিরুল হাসান বাপ্পী, কুড়িগ্রাম-২ এ সোহেল হোসেন কায়কোবাদ, জয়পুরহাট-১ এ মো. মাসুদ রানা প্রধান, বরিশাল-৪ থেকে রাজীব আহসানসহ অনেকেই নতুন মুখ।
প্রয়াত নেতাদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন এ তালিকায়। নাটোর-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের কন্যা ফারজানা শারমিন পুতুল, যশোর-২ এ সাবিরা সুলতানা মুন্নী, ঝিনাইদহ-৩ এ প্রয়াত শহীদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মেহেদী হাসান, আর চট্টগ্রাম-৫ এ প্রার্থী হয়েছেন মীর নাসিরের ছেলে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের মধ্যেও রয়েছেন কয়েকজন প্রবাসী বিএনপি নেতা। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল মালিক লড়বেন সিলেট-৩ থেকে, আর সাধারণ সম্পাদক কয়সর আহমেদ সুনামগঞ্জ-৩ থেকে।
নির্বাচনের আগেই সরগরম ভোটের মাঠ
ঘোষণার পর থেকেই জেলাভিত্তিক রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে। কোথাও আনন্দ মিছিল, কোথাও ক্ষোভ। বঞ্চিত নেতারা অনেকে প্রকাশ্যে আপত্তি জানালেও দলের হাইকমান্ড বলছে, এটি প্রাথমিক তালিকা; প্রয়োজন হলে সমন্বয় করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ফলে বিএনপির মাঠে ফেরার এই প্রচেষ্টা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।
এক নজরে দেখে নিন প্রথমবারের মতো বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা
দিনাজপুর-১ মনজুরুল ইসলাম; বিএনপি পরিবার থেকে আসা।
দিনাজপুর – ৬ ডা. এ জেড এম জাহিদ; খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ড্যাব নেতা।
নীলফামারী-২ এ এইচ মো. সাইফুল্লাহ রুবেল; জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও যুবদলের সভাপতি।
নীলফামারী- ৪ মো. আব্দুল গফুর সরকার; রাজনৈতিক জেলা বিএনপি সৈয়দপুরের সভাপতি
রংপুর- ১ মোকাররম হোসেন সুজন; গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। উপজেলা নির্বাচন করে বহিষ্কার হয়েছিলেন।
রংপুর – ৩ মো. সামসুজ্জামান সামু; রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক।
কুড়িগ্রাম- ২ সোহেল হোসেন কায়কোবাদ; জেলা বিএনপির সদস্য সচিব।
গাইবান্ধা- ১ খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী। জেলায় বিএনপির নতুন মুখ। কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও চিকিৎসক।
জয়পুরহাট-১ মো. মাসুদ রানা প্রধান
জয়পুরহাট- ২ আব্দুল বারী
বগুড়া- ৩ আব্দুল মুহিত তালুকদার
বগুড়া- ৬ তারেক রহমান
নওগাঁ- ৩ ফজলে হুদা বাবুল
নওগাঁ- ৪ ইকরামুল বারী টিপু
নওগাঁ–৬ শেখ মো. রেজাউল ইসলাম
রাজশাহী- ১ অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শরীফ উদ্দীন
রাজশাহী- ৪ ডিএম জিয়াউর রহমান
নাটোর- ১ ফারজানা শারমিন পুতুল; সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের কন্যা
সিরাজগঞ্জ- ৩ ভিপি আয়নুল হক
পাবনা- ৩ মো. হাসান জাফির তুহিন; কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি
কুষ্টিয়া- ২ রাগীব রউফ চৌধুরী; দুদকের আইনজীবী
ঝিনাইদহ- ৩ মেহেদী হাসান; সাবেক এমপি শহীদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে
যশোর- ২ সাবিরা সুলতানা মুন্নী; তার স্বামী প্রয়াত নাজমুল ইসলাম যশোর জেলা বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন
যশোর- ৬ কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ; ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি
খুলনা- ৬ মনিরুল হাসান বাপ্পী
সাতক্ষীরা- ২ আব্দুর রউফ
সাতক্ষীরা- ৪ ডা. মনিরুজ্জামান
বরগুনা- ১ নজরুল ইসলাম মোল্লা
ভোলা- ১ গোলাম নবী আলমগীর
ভোলা- ৪ মো. নুরুল ইসলাম নয়ন
বরিশাল- ৪ রাজীব আহসান
পিরোজপুর- ২ আহমেদ সোহেল মঞ্জু সুমন
টাঙ্গাইল- ১ ফকির মাহবুব আনাম স্বপন
টাঙ্গাইল- ৩ এসএম ওবায়দুল হক নাসির
টাঙ্গাইল- ৪ লুৎফর রহমান মতিন
টাঙ্গাইল- ৬ রবিউল আউয়াল লাবলু
টাঙ্গাইল-৮ আহমেদ আজম খান
ময়মনসিংহ-১ সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স
ময়মনসিংহ-২ মোতাহের হোসেন তালুকদার
ময়মনসিংহ-৬ আখতারুল আলম
ময়মনসিংহ-৮ লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু
ময়মনসিংহ-৯ ইয়াসের খাঁন চৌধুরী
কিশোরগঞ্জ-২ আইনজীবী মো. জালাল
মুন্সীগঞ্জ-১ শেখ মো. আবদুল্লাহ
ঢাকা-৪ তানভীর আহমেদ রবিন; ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন
ঢাকা- ৬ ইসরাক হোসেন; প্রয়াত ঢাকার মেয়র ও বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে
ঢাকা- ১১ এম এ কাইয়ুম
ঢাকা- ১৪ সানজিদা ইসলাম তুলি; মায়ের ডাক এর সংগঠনক
ঢাকা- ১৫ শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন; ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা
ঢাকা- ১৬ আমিনুল হক; সাবেক ফুটবলার
গাজীপুর – ২ এম মঞ্জুরুল করিম রনি
গাজীপুর ৩ ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু
নারায়ণগঞ্জ ১ মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দীপু
নারায়ণগঞ্জ – ৫ মো. মাসুদুজ্জামান
ফরিদপুর-৩ চৌধুরী নায়াব ইউসুফ; সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ এর কন্যা
ফরিদপুর-৪ শহীদুল ইসলাম বাবুল
গোপালগঞ্জ-২ ডা. কে এম বাবর আলী
মাদারীপুর-১ কামাল জামান মোল্লা
শরীয়তপুর-১ সাইদ আহমেদ আসলাম
সুনামগঞ্জ-১ আনিসুল হক
সুনামগঞ্জ-৩ কয়সর আহমেদ (যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক)
সিলেট- ৩ মোহাম্মদ আবদুল মালিক (যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি)
সিলেট-৬ এমরান আহমেদ চৌধুরী
মৌলভীবাজার-২ সওকত হোসেন সকু
হবিগঞ্জ-২ ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ এম এ হান্নান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আব্দুল মান্নান
কুমিল্লা-৫ জসিম উদ্দিন
কুমিল্লা-৮ জাকারিয়া তাহের
কুমিল্লা-৯ আবুল কালাম
কুমিল্লা-১১ কামরুল হুদা
ফেনী-৩ আব্দুল আওয়াল মিন্টু, ব্যবসায়ী নেতা, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান
নোয়াখালী-৫ মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম
নোয়াখালী-৬ মাহবুবের রহমান শামীম
চট্টগ্রাম-২ সরওয়ার আলমগীর
চট্টগ্রাম-৪ কাজী সালাউদ্দিন
চট্টগ্রাম-৫ মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন; সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা মীর নাসিরের ছেলে
চট্টগ্রাম-৭ হুম্মাম কাদের চৌধুরী; মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ড পাওয়া বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে
চট্টগ্রাম-৮ এরশাদ উল্লাহ; ব্যবসায়ী নেতা
চট্টগ্রাম-১৬ মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা; প্রয়াত বিএনপি নেতা জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে
রাঙামাটি- দীপেন দেওয়ান
পতাকানিউজ/এআই

