ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রীসভার শপথগ্রহণ মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি। এদিন সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকালে সংসদ-সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।
এরপর বিকেল ৪টায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবন-এর পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজউদ্দিন মিয়া।
এদিকে শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এছাড়া কমবেশি এক হাজার দেশি-বিদেশি অতিথিকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সিনিয়র সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, সরকারের সিনিয়র সচিব ও সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশনপ্রধান এবং সিনিয়র সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অপরদিকে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ঢাকার বেইলি রোড, গুলশান, ধানমন্ডি এবং মিন্টো রোড এলাকায় প্রায় ৪০টি বাসভবন ও অর্ধশত বিলাসবহুল গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৪০টি বাড়ি প্রস্তুত থাকলেও নতুন সরকারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনে ভোট স্থগিত করা হয়। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন, এনসিপি পেয়েছে (১১ দলীয় জোট) ৬টি আসন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ১টি আসন, গণঅধিকার পরিষদ পেয়েছে ১টি আসন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১টি আসন, গণসংহতি আন্দোলন পেয়েছে ১টি আসন, খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছে ৭টি আসন।
এদিকে অন্য দুই আসন আইনি জটিলতার কারণে আটকে আছে।
পতাকানিউজ/আরবি

