চট্টগ্রামের বাকলিয়া নতুন ব্রিজ এলাকার যানজট নিরসনে বহুমাত্রিক সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ। আগামী শনিবার থেকে তা কার্যকর হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশেরও কিছু ঘাটতি রয়েছে, যা উন্নত করার অনেক সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার, ৮ অক্টোবর বিকেলে ৩টায় চট্টগ্রামের বাকলিয়া নতুন ব্রিজ এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত সমন্বয় ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বহুমাত্রিক সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে জানিয়ে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘নতুন ব্রিজ এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আমরা বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। সহনীয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ধরে রাখার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে চাই। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিষয়গুলো বহুমাত্রিক। অবকাঠামোগত সমস্যা, ফুটওভার ব্রিজ প্রয়োজন, গোলচত্বর ছোট করা দরকার, রাস্তা প্রশস্থ করা, ফুটপাত-রাস্তা অবৈধ দখলে।’
৫ আগস্ট ফ্যাসিজমের বিতারণের পর থেকে মালিকদের অনেকে পালিয়ে গেছে। শ্রমিক সংগঠনে ফ্যাসিস্টদের সহযোগী যারা ছিল তারাও পালিয়ে গেছে। নতুন করে মালিক ও শ্রমিকদের সুষ্ঠু প্রতিনিধি কারা সেটা এখনও বুঝতে পারছি না। মালিক, শ্রমিক সংগঠনগুলোতে সমন্বয়ের অভাব হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ কমিশনার অভিযোগ করে বলেন, ‘কাউন্টার ভিত্তিক গাড়ি চালানো হচ্ছে না। টার্মিনালে না রেখে গাড়ি রাস্তায় রাখা হচ্ছে। বেশি যাত্রী নেয়ার প্রতিযোগিতায় খালি জায়গার বাইরে রাস্তায় গাড়ি রাখা হচ্ছে। এ সকল সমস্যা সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। আগামীকাল বৃহস্পতিবার পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া নতুন ব্রিজ এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে ২০২০ সালের একটি রেজুলেশন হয়েছে। সেটি বর্তমানে কার্যকর হবে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকরা সচেতন না হলে যানজট নিরসন সম্ভব নয়। ২টি জেলা ৭ উপজেলার চট্টগ্রামের প্রবেশপথ এটি। এখানে টার্মিনাল করা হয়েছে। ওটা তুলে নিতে হবে। কাউন্টার করা হয়েছে তা ঠিক আছে। অনেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ নেই। এছাড়া চাঁদাবাজদের তথ্য চাইলে কেউ সহযোগিতা করেন না।’
সিএমপি ট্রাফিক ডিসি (দক্ষিণ) লিয়াকত আলী খান উপস্থিত মালিক-শ্রমিকদের অনুপস্থিত সকলকে আজকের সভার বিষয়ে জানানোর আহ্বান জানান।
চসিক ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমা বলেন, ‘কাউন্টারের পাশে স্পেস রয়েছে। সেখানে গাড়ি ঢুকালে যানজট থাকে না। এছাড়া এ এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ প্রয়োজন। রাস্তার পাশে রেলিং দিলে মানুষ রাস্তায় নামতে পারবে না।’
সভায় গাড়ি মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নতুন ব্রিজের যানজট নিরসনে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। এসময় বাঁশখালি বাস কাউন্টারের ম্যানেজার সুমন বড়ুয়া বলেন, ‘কাউন্টার ভিত্তিক গাড়ি কাউন্টার হয়ে চললে ও লোকাল গাড়ি সময় না নিয়ে দ্রুত সরে গেলে যানজট হবে না।’
শৃঙ্খলা কমিটির সাবেক সদস্য সচিব নুরুল কবির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ২০২০ সালের একটি রেজুলেশন তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি পরিবহণে নানাভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগও করেন। এছাড়া অবৈধ গাড়ি ও গ্রাম রেজিস্ট্রেশনভুক্ত গাড়ি যেন শহরে প্রবেশ না করে সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
ঈগল-১ গাড়ির মালিক আক্তার হোসেন চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আগে একটি ঈগল পরিবহন ছিল। বর্তমানে ৫ ভাগে বিভক্ত হয়েছে। তবে গাড়িগুলো এ রুটে নামানোর সময় প্রতি গাড়ি ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হয়েছে। গাড়ির সরকারি ট্যাক্স বেড়েছে। কিন্তু দিন শেষে অভিযোগ সব ঈগল গাড়ির দিকে।’
পতাকানিউজ/আরএস/আরবি

