ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী সোমবার সকালে সংসদ সদস্য এবং বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে। সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং বিকেলে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন— এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। অবশ্য সন্ধ্যায় তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে কে দায়িত্বপালন শুরু করতে যাচ্ছেন-সেই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া যায়নি।
পদত্যাগের আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শপথ অনুষ্ঠানে বড় আয়োজন
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে বড় পরিসরের আয়োজন করা হচ্ছে। এ অনুষ্ঠানে কমবেশি এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, শপথ ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি হবে কি না—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় ও তারিখ জানানো হলে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হবে। “যদি আগামীকালও নির্দেশ আসে, তাহলে আগামীকালই কাজ করতে হবে”—যোগ করেন তিনি।
সংসদ সদস্যদের শপথ: সরকার গঠনের প্রথম ধাপ
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জাতীয় সংসদের ২৯৭টি আসনে নির্বাচিত সদস্যদের গেজেট ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন কর্মদিবসের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়।
সেই হিসেবে ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি—এই তিনদিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে সরকার গঠনের পরবর্তী সাংবিধানিক ধাপ শুরু হবে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা নির্বাচন ও প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ
সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো নিজেদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন হিসেবে যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে বিষয়টি অবহিত করবেন এবং এরপর রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ীকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের পর সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
মন্ত্রিসভার আকার নির্ধারণ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত
মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসংখ্যা কত হবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে নতুন প্রধানমন্ত্রী বা সংসদ নেতার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তিনি কতজনকে এখন বা পরবর্তীতে মন্ত্রিসভায় রাখতে চান, সেই অনুযায়ী মন্ত্রিসভার কাঠামো নির্ধারিত হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন হওয়ার পরপরই নতুন সরকারের শপথ আয়োজন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে পারে।
-পতাকানিউজ

