দীর্ঘ ১৭ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ সময় পর ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন—এমন মূল্যায়ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট জয় পেয়েছে ২১২টিতে, ফলে নিয়ম অনুযায়ী সরকার গঠনের পথে রয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নিয়ে আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।
নতুন সরকারের সামনে ক্রীড়াখাতের চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন এখন পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবলসহ অন্য খেলাগুলোতে অগ্রগতি কম। বিভিন্ন স্তরে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিভা বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা—নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্রীড়াপ্রেমী দেশের প্রত্যাশাও তাই অনেক বেশি।
সংসদে খেলোয়াড়দের উপস্থিতি সীমিত
বিএনপির ২১২ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে সরাসরি মাঠের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মাত্র দুজন। চাঁদপুর-১ আসন থেকে জয়ী সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় এহসানুল হক মিলন এবং সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তবে রাজনৈতিক সূত্র বলছে, এই দুই নেতাকে অন্য মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক ঢাকা-১৬ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিলেও জয়ী হতে পারেননি। তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, টেকনোক্র্যাট কোটায় সংসদ সদস্য করে তাকে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
হেভিওয়েট আলোচনায় আলী আসগর লবি
সম্ভাব্য ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আলী আসগর লবি। খুলনা-৫ আসন থেকে জয়ী হয়ে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে পরাজিত করেন।
ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে লবির দীর্ঘ সম্পর্ক তাকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আবাহনী ক্লাবের পরিচালকের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। ফলে প্রশাসনিক ও ক্রীড়া—দুই ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া ইশরাক হোসেনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপি আমলে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইতিহাস
বিএনপি পূর্বে দুই দফা সরকার গঠন করলে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা এবং ফজলুর রহমান পটল। ১৯৯১ সালে স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেন মির্জা আব্বাস; পরে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে পুরো সময় ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সামলান ফজলুর রহমান পটল। তবে সে সময় সবাই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সামনে ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, পেশাদার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। তাই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কে আসছেন—তা নিয়ে আগ্রহ শুধু রাজনৈতিক মহলে নয়, ক্রীড়া অঙ্গনেও তুঙ্গে।
-পতাকানিউজ

