পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড়বিঘাই ইউনিয়নের তিতকাটা গ্রামে টিউবওয়েল বসাতে গিয়ে মাটির নিচ থেকে বের হয়। আর গত ছয় মাস ধরে অবিরাম এই গ্যাসের ধারা জ্বলছে আগুন, সেই আগুনেই স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের পরিবার রান্নার কাজ করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের বাড়ির পাশে মাটির নিচ থেকে অনবরত উঠছে গ্যাসের বুদবুদ। আশপাশের লোকজন কৌতুহলবশত প্রতিদিনই সেখানে ভিড় করছেন।
স্থানীয়রা জানান, মিজানুর কয়েক মাস আগে বাড়িতে গভীর নলকূপ বসানোর সময় পাইপ বসাতেই মাটির নিচ থেকে গ্যাসের প্রবাহ শুরু হয়। শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গ্যাস ওঠা থামছে না। এরপর ওই গ্যাসে রান্নার কাজ শুরু করেন তারা। সরকারিভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হলে এটি গ্যাসের সম্ভাব্য উৎস হতে পারে। আর এমনটি হলে এটি হতে পারে পটুয়াখালীবাসীর জন্য এক বড় সৌভাগ্যের বিষয়।
ইউপি সদস্যের স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন, ‘এ আগুনে ভাত, তরকারি রান্নাসহ পানি গরম করা, চাও তৈরি করেন। আসলে এটা কীভাবে হচ্ছে, বা এটি সত্যিকারের গ্যাস কিনা আমরা বুঝি না। তবে আমরা একটু ভয়ও পাই, যদি এটা বিপদজনক হয়।’
প্রতিবেশী মনির মিয়া বলেন, ‘আমরা নিজের চোখে আগুন জ্বলতে দেখেছি। ইউপি সদস্য মাঝে মাঝে আগুন ধরিয়ে দেখান। সত্যি এখানে গ্যাসের মওজুত থাকলে বিষয়টি পরীক্ষা করা জরুরি।’
ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রায় ছয় মাস আগে গভীর নলকূপ বসানোর সময় পানি উঠেনি এবং বুদবুদ শব্দ শুনেছিলাম। পরে দেখি গ্যাস বের হচ্ছে। তখন আমি রান্নার কাজে ব্যবহার শুরু করি।’
বড়বিঘাই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিঠু মৃর্ধা বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও বিষয়টি জানিয়েছি। আসলে এখানে কী পরিমাণ গ্যাস আছে, তা পরীক্ষা করা দরকার।’
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত আরা জামান উর্মি বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছি। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
পতাকানিউজ/আইএমএস/এএইচ

