ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাজুড়ে রয়েছে প্রায় ৭০ কিলোমিটার রেলপথ। এর মধ্যে রয়েছে ১৫টি রেলওয়ে স্টেশন, যার দুটি এখন বন্ধ আছে। রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম একটি রেলওয়ে জংশন, যেটি কেপিআই এর আওতাভুক্ত।
এসব রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে আখাউড়া রেলওয়ে জংশনসহ বেশ কয়েকটির আধুনিকায়ন হয়েছে। তবে সে অনুযায়ী বাড়েনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বরং দিনকে দিনকে নাজুক নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রেলওয়ে স্টেশনগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে মূলত রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনী। ওই দুটি সংস্থাতেই রয়েছে লোকবলের চরম সংকট। যে কারণে সঠিক দায়িত্ব পালনে তাদেরকে হিমশিম খেতে হয়। দুটি ফাঁড়ি বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যেই রেলওয়ে পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখেছে।
এদিকে স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সেবার মান উন্নয়নে জেলার ৪টি স্টেশনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে উঠেছে। কিছু ঘটনায় এর সুফলও মিলেছে। বিশেষ করে স্টেশন ও এর আশেপাশের এলাকায় ছিনতাই রোধে তাদের কার্যক্রম প্রশংসা পায়।
সম্প্রতি আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বসার জায়গায় শুয়ে আছেন এক যুবক। এক চোর এসে তার পকেট থেকে ফোন ও টাকা নিয়ে যায়। পরে অবশ্য সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ওই চোরকে আটক করে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, ট্রেনে উঠার সময় মোবাইল চুরির সময় ‘ঐক্যবদ্ধ আখাউড়া’ টিমের সদস্যরা একজনকে আটক করে। এদিকে ‘ঐক্যবদ্ধ আশুগঞ্জ’ টিমের সদস্যরা স্বেচ্ছায় দায়িত্ব পালনকালে বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারীকে মেঘনা সেতু ও এর আশপাশ থেকে আটক করে।

জেলার মধ্যে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনটি সবচেয়ে বড়। আধুনিকায়নের পর এটির পরিধি আরো বেড়েছে। আর এতেই নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। তবে সে অনুযায়ী পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীতে লোকবল বাড়েনি। এতে করে সন্ধ্যার স্টেশনের একটি অংশ মাদকসেবীদের আড্ডায় পরিণত হয়। নিয়মিত চুরি হয় রেলওয়ের পণ্য। এছাড়া যাত্রীরা ট্রেনে উঠার সময় চোর, ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন ও এর আশেপাশে বিশেষ করে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে অহরহ।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকার দিকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত, চট্টগ্রামের দিকে মন্দবাগ পর্যন্ত ও সিলেটের দিকে মুকুন্দপুর পর্যন্ত আমাদেরকে দেখতে হয়। যাত্রীসেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। তবে আমাদের লোকবল ঘাটতি রয়েছে। ফোর্স বাড়ানোর জন্য চিঠি লেখা হয়েছে। এছাড়া কসবা ও আজমপুর স্টেশনে দুটি পুলিশ ফাঁড়ি করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে আখাউড়া থানা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফাঁড়ির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।’
পতাকানিউজ/বিপিবি/এমওয়াই

