বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ঢাকা পর্ব শুরু হওয়ার কথা ছিল নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী। কিন্তু মাঠে গড়ানোর আগেই বিপিএল ঢুকে পড়ে বিতর্ক আর নাটকীয়তার ঘূর্ণিতে। বিসিবির পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ক্রিকেটাররা।
তার পদত্যাগের দাবিতে খেলোয়াড়দের বয়কট ডাকে স্থবির হয়ে যায় পুরো লিগ। ফলে বৃহস্পতিবার মিরপুরে সূচিভুক্ত দুটি ম্যাচই আলোর মুখ দেখেনি।
এক দিনের অচলাবস্থার পর অবশেষে শুক্রবার মাঠে ফিরেছে বিপিএল। দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টস জিতে চট্টগ্রাম নোয়াখালীকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার কঠিন সমীকরণ সামনে নিয়ে তাই ব্যাট হাতে নামতে হয়েছে নোয়াখালীকে।
বিপিএলের এবারের আসর শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। মাঠের বাইরের বিতর্ক পেরিয়ে মাঠের খেলায় তারা দেখিয়েছে ভিন্ন চেহারা। শেখ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে দলটি ইতোমধ্যেই প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে।
তবে চট্টগ্রামের লক্ষ্য এখানেই থেমে নেই। শীর্ষ দুইয়ে থেকে লিগ শেষ করতে চাইবে দলটি। সেই লক্ষ্যে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে তারা—লিগ পর্বে এখনও তাদের তিনটি ম্যাচ বাকি।
অন্যদিকে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সামনে পরিস্থিতি বেশ জটিল। আট ম্যাচ খেলে তাদের সংগ্রহ চার পয়েন্ট। প্লে-অফের স্বপ্ন এখনও বেঁচে থাকলেও তা পুরোপুরি যদি-কিন্তুর ওপর নির্ভরশীল। শেষ দুই ম্যাচ জিতলেই শুধু চলবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে রংপুরের ফলের দিকেও।
রংপুর যদি বাকি দুই ম্যাচের যেকোনো একটিতে জয় পায়, তাহলে নোয়াখালী ও ঢাকা ক্যাপিটালস—দু’দলই ছিটকে যাবে টুর্নামেন্ট থেকে। ইতোমধ্যে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, চট্টগ্রাম রয়্যালস এবং সিলেট টাইটান্স প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিনভর বিপিএল ছিল মাঠের বাইরে এক অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী। ক্রিকেটাররা যখন হোটেলে বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে ব্যস্ত, তখন মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামের ২২ গজে হাঁটতে দেখা গেছে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্য পরিচালকদের। বিসিবি একপর্যায়ে এম নাজমুল ইসলামকে শোকজ করলেও ক্রিকেটাররা তাদের অবস্থানে অনড় ছিলেন।
শেষ পর্যন্ত রাতে বিসিবির সঙ্গে বৈঠকের পর ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব শর্তসাপেক্ষে খেলায় ফেরার ঘোষণা দেয়। সেই সিদ্ধান্তের ফলেই শুক্রবার আবার প্রাণ ফিরে পায় বিপিএল।
নাটক, অনিশ্চয়তা আর চাপা উত্তেজনা পেরিয়ে মাঠে গড়ায় খেলা—যেখানে কারও জন্য এটি শীর্ষে থাকার লড়াই, আর কারও জন্য বাঁচা–মরার প্রশ্ন।
চট্টগ্রাম রয়্যালস একাদশ : নাঈম শেখ, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটরক্ষক), মাহফিজুল ইসলাম রবিন, মাহমুদুল হাসান জয়, হাসান নেওয়াজ, শেখ মাহেদী হাসান (অধিনায়ক), আসিফ আলি, আমির জামাল, শরিফুল ইসলাম, তানভির ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস একাদশ : হাসান ইসাখিল, সৌম্য সরকার, মুনিম শাহরিয়ার, হাবিবুর রহমান সোহান, সাব্বির হোসেন, হায়দার আলি (অধিনায়ক), জাকের আলি অনিক (উইকেটরক্ষক), হাসান মাহমুদ, মেহেদি হাসান রানা, ইহসানউল্লাহ ও জহির খান।
-পতাকানিউজ

