সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নার্সের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যু অভিযোগ উঠেছে। বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় জগন্নাথপুর নগর মাতৃসনদ ও নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা জাকির হোসেন থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পুলিশ ও অভিযোগকারী জানায়, উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের সমশপুর গ্রামের জাকির হোসেন গত শনিবার রাতে তার গর্ভবতী স্ত্রী মারজানা বেগম জগন্নাথপুর নগর মাতৃসনদ ও নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন। পরদিন রবিবার সিজারের মাধ্যমে একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেন। শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে সুস্থ ছিল। এরপর হঠাৎ করে মঙ্গলবার রাত ২টায় শিশুর খিচুনি দেখা দেয়। আজ বুধবার সকাল ৮টায় নার্স হেপি দাস শিশুটিকে একটি ইনজেকশন দিলে কিছুক্ষণ পর শিশুটি মারা যায়।
নবজাতকের ফুফু তাসলিমা বেগম বলেন, ‘জন্মের পর থেকে শিশুটি ভালো ছিল। শিশুর হাতে একটি কেনলা লাগানো ছিল। যার ফলে শিশুটির হাত পুলে যায়। হঠাৎ করে খিচুনি দেখা দিলে কর্মরত নার্স হেপি দাসকে বার বার বলার পরও নার্স কেনলা খুলেনি। এসময় নার্স আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। এছাড়া কোন চিকিৎসকও দেখতে আসেননি। আজ সকালে ইনজেকশন দেয়ার পর শিশু মারা যায়।
নবজাতকের বাবা জাকির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাত ২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত একজন চিকিৎসকও আসেননি। আজ সকালে নার্স ইনজেকশন দেয়ার পর আমার মেয়ে মারা যায়। আমার মেয়েকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলে হয়েছে। আমি ন্যায় বিচার চাই।
জানতে চাইলে জগন্নাথপুর নগর মাতৃসনদের আরএমও মাহবুব আলম মিজু বলেন, ‘জন্মের পর থেকে শিশুটি ভালো ছিল। হঠাৎ করে শিশুটির অবস্থা খারাপ হওয়ার খবর নার্স বা শিশুর স্বজনরা কেউই আমাকে জানায়নি। শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর সময় ভুল হলে শিশুটি মারা যেতে পারে। তবে নার্সের অবহেলার বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে তদন্ত করে দেখছি।
জগন্নাথপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) হাফিজুর রহমান বলেন, ‘খবর পেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পতাকানিউজ/এডি/আরবি

