নাসার চাঁদ অভিযান। সময়কাল ১৯৬৯ সাল। মানুষ প্রথমবারের মতো পৌঁছে গিয়েছিল চাঁদে। এরপর আজ পর্যন্ত কেউ চাঁদে পা রাখেনি। এরপর আরো এক দফা চাঁদের পাশে চক্কর দিয়ে এসেছে মানুষ। নামেটি চাঁদে।
আজ ভোরে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে আরও চাঁদে গেছে নাসার নভোচারীর দল। চার সদস্যের এই দলে একজন নারী এবং তিনজন পুরুষ রয়েছেন।
মহাকাশ অভিযানের সফল মাইলফলকটি রচিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো কর্মসূচির মাধ্যমে।
ওই সময় অ্যাপোলো ১১ মিশনে নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অলড্রিন চাঁদে অবতরণ করেছিলেন। সভ্যতার যুগে প্রযুক্তির সক্ষমতার কেতন উড়িয়েছিলেন চাঁদে।
প্রায় ৫৭ বছর পর আবারও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা নতুন মিশন শুরু করলো।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ৬টা ৩৫ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে কমলা ও সাদা রঙের শক্তিশালী রকেটটি আকাশে উড্ডয়ন করে। ওই সময় চারপাশে প্রচণ্ড গর্জনে প্রকম্পিত হয় পুরো এলাকা। এই যাত্রায় অংশ নেওয়া চার নভোচারীর মধ্যে তিনজন যুক্তরাষ্ট্রে এবং একজন কানাডার নাগরিক।
প্রথম দফা সরাসরি চাঁদে অবতরণ করলেও এবার অবতরণ করবে না নভোচারী দল। প্রায় ১০ দিনের অভিযানে নভোচারীরা চাঁদের কক্ষপথের কাছে গিয়ে পৃথিবী থেকে অদৃশ্য অংশের পাশ ধরে প্রায় ৬ হাজার ৪০০ মাইল দূরত্বে উড়বেন। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করে চাঁদের পৃষ্ঠের বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ, ছবি ধারণ এবং প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করবেন।
এই মিশনের আরো দিক থাকছে মহাকাশ ভ্রমণের সময় মানুষের শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যে কি ধরনের প্রভাব পড়ে তা পর্যবেক্ষণ করা। এই চারজন যখন ১০ দিন পর পৃথিবীতে ফিরে আসবেন তখন তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। যাতে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে কার্যক্রম চালানো যায়।
নাসার পরিকল্পনা, আজ শুরু হওয়া মিশন যদি সফল হয়, তাহলে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ২০২৮ সালে পুনরায় চাঁদে যাবে মানুষ। তখন সরাসরি চাঁদে অবতরণ উদ্যোগ নেওয়া হবে। চন্দ্র অভিযানের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতি এবং পথ সুগম হবে বলে আশা করছে নাসা।

যারা গেলে চাঁদের কাছে
অভিযানটির নাম দেওয়া হয়েছে আর্টেমিস–২ মিশন। এর নেতত্ব রয়েছে কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের কাঁধে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাবেক পাইলট ও টেস্ট পাইলট।
২০০৯ সালে তিনি নাসার নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে টানা ১৬৫ দিন অবস্থান করেন।
মহাকাশযানের পাইলটের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন ভিক্টর গ্লোভার। তিনি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করেন এবং স্পেসএক্সের ক্রু–ওয়ান মিশনের পাইলট ছিলেন। চাঁদ অভিযানে অংশ নেওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী হিসেবেও তিনি ইতিহাসে নাম লিখাচ্ছেন। তাঁর রয়েছে তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি।
মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কচ ২০১৩ সালে নভোচারী হিসেবে যোগ দেন। তিনি একটানা ৩২৮ দিন মহাকাশে থেকে নারীদের মধ্যে দীর্ঘতম মহাকাশযাত্রার রেকর্ড গড়েছেন। এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি চাঁদের চারপাশে ভ্রমণকারী বিশ্বের প্রথম নারী হতে যাচ্ছেন।
দলের আরেক সদস্য জেরেমি হ্যানসেন, যিনি প্রথম কানাডীয় নভোচারী হিসেবে চাঁদ অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে নাসার বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি ৭ দিন পানির নিচে অবস্থান করেছিলেন, যা মহাকাশ পরিবেশের অনুকরণে পরিচালিত একটি বিশেষ প্রস্তুতি কর্মসূচি।
নব সূচনা
অ্যাপোলো যুগের পর দীর্ঘ বিরতি শেষে আর্টেমিস কর্মসূচি মহাকাশ গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই কর্মসূচি শুধু চাঁদে মানুষের প্রত্যাবর্তনই নিশ্চিত করবে না, বরং ভবিষ্যতে গভীর মহাকাশে মানুষের উপস্থিতি স্থায়ী করার পথও তৈরি করবে।
নাসার এই অভিযান ঘিরে পুরো বিশ্বের কৌতুহলি চোখ এখন অভিযান ঘিরে। নাসার অভিযান কখন শুরু হচ্ছে, শুরু হলো কি না? কারা গেলেন? কি করবেন তারা? কখন ফিরবেন? সেখানে খাবেন কি? –সব ধরনের কৌতুহলী প্রশ্ন এখন আগ্রহীদের মনে।
-তথ্যসূত্র : বিবিসি
–পতাকানিউজ

