নিউ ইয়র্ক সিটিতে সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রায় ১৫,০০০ নার্স বৃহত্তম ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন। যা শহরের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নার্সদের প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধর্মঘটটিতে অংশ নেওয়া নার্সরা বেতন, কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান চুক্তি আলোচনায় কোনো সমাধান না পাওয়ায় এই কঠোর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন এবং আন্দোলন শুরু করেছেন।
ধর্মঘটের পেছনে নিউ ইয়র্ক স্টেট নার্স অ্যাসোসিয়েশন অন্যতম প্রধান সংগঠক। সংগঠন বলেছে, তারা বহু মাস ধরে তিনটি বড় বেসরকারি হাসপাতাল— মাউন্ট সিনাই, নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান ও মন্টিফিওর — সঙ্গে নতুন নিয়োগ, বেতন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি আলোচনায় ব্যর্থ হয়েছে। গত সোমবার সকাল ৬টায় হাজার হাজার নার্স চাকরি ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং বাইরে লাইনে দাঁড়ান।
ধর্মঘটটি এমন একটি সময়ে এসেছে যখন শহরের হাসপাতালগুলোতে তীব্র রোগীর চাপ রয়েছে। ফলে রোগীদের সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল রাজ্যে ডিজাস্টার ইমার্জেন্সি ঘোষণা করেছেন, যাতে হাসপাতালে যত দ্রুত সম্ভব কর্মী যোগান দেওয়া যায় এবং সেবা প্রদানে বিঘ্ন না ঘটে।
ধর্মঘটের মূল দাবি :
• নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, যাতে নার্সরা কাজের সময় চাপ এবং হিংসাত্মক ঘটনার ভয়ে না থাকে।
• যুক্তিযুক্ত বেতন বৃদ্ধি এবং বর্তমান বেতন কাঠামোকে সময়োপযোগী করা।
• পূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করা।
• কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্ত করা।
ধর্মঘটের ডাক দেওয়া সংগঠনের নেতারা বলেছেন, ধর্মঘট সবসময়ই শেষ বিকল্প হিসেবে নেওয়া হয়, কিন্তু হাসপাতালগুলোর পক্ষ থেকে দীর্ঘ আলোচনার পরও বাস্তবতাপূর্ণ পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে কর্মীরা এই পথে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
নার্সদের দাবিগুলোতে রাজনৈতিক ও জনসাধারণের মনোযোগও দেখা যাচ্ছে। নিউ ইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানি কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানিয়েছেন এবং উভয় পক্ষকে দ্রুত আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নাগরিকদের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার।’
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে বলা হচ্ছে যে, তারা রোগীদের সেবা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অস্থায়ী নার্স নিয়োগ দিয়েছে এবং কিছু সার্জারি বা উন্নত চিকিৎসা কার্যক্রম স্থগিত রেখে জরুরি সেবা প্রদানে মনোযোগ দিয়েছে। মাউন্ট সিনাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউনিয়নের অর্থনৈতিক দাবিগুলো তাদের জন্য অত্যন্ত ভারী হতে পারে। তারপরও কিছু বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
ধর্মঘটটি শহরের মূল স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং চিকিৎসা সেবায় অস্থিরতা তৈরি করেছে। হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, তারা যতক্ষণ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি স্থায়ী না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত জরুরি পরিষেবা এবং রোগীদের খেয়াল রাখার ব্যবস্থা চালিয়ে যাবে।
নার্সরা জানান, ২০২৩ সালেও একটি ধর্মঘট হয়েছিল যেখানে তারা কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা পেয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে যে সেই চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন পর্যাপ্ত হয়নি এবং নতুন করে সমস্যায় পড়েছেন কর্মীরা। তাই তারা আবারো দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন এবং তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন।
এই ধর্মঘট কখন শেষ হবে তা স্পষ্ট নয়। এমতাবস্তায় কর্মীরা কর্মীরা তাদের অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য আন্দোলন করছেন। আর হাসপাতালগুলো রোগীদের সেবা চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। নিউ ইয়র্কের মেডিকেল ব্যবস্থা ও শ্রমিক অধিকার সমস্যা, উভয় দিকেই এখনো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখে রয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
পতাকানিউজ।

