ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিখোঁজ থাকার প্রায় ২০ দিন পর এক মা ও তার কিশোরী মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মীম বেগম (২৪) এবং তার বড় বোন নুরজাহান বেগম ওরফে নুসরাত (৩০)।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তির বাগ এলাকার একটি বাসা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতরা হলেন রোকেয়া রহমান (৩২) ও তার মেয়ে ফাতেমা (১৪)। ফাতেমা স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিল। তারা আইনজীবীর সহকারী মো. শাহীন মিয়ার স্ত্রী ও মেয়ে। নিখোঁজের ঘটনায় মো. শাহীন মিয়া গত ২৫ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
পুলিশ জানায়, কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তির বাগ এলাকায় শামীম মিয়ার মালিকানাধীন পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মীমের ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রনি চৌধুরী জানান, ফ্ল্যাটের একটি খাটের নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের মরদেহ এবং বাথরুমের সানশেড থেকে তার কিশোরী মেয়ে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মীমসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরে মরদেহ দুটি মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
এদিকে নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজের পর থানায় যোগাযোগ করা হলেও তারা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাননি। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
–পতাকানিউজি

