খুলনার কয়রায় নিখোঁজ শিশু সামিরাকে উদ্ধারের দাবি ও পুলিশের গাফিলতির অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় উপজেলার ঘুগরাকাটি বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শোকে সামিয়ার বাবা-মা পাগলের মত ছুটে বেড়াচ্ছে। অথচ সামিরাকে উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছে না। কয়রা থানা পুলিশ চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী থানাগুলোতেও জিডির কপি এখনও পৌঁছানো হয়নি। ফলে তার পরিবার পার্শ্ববর্তী থানাগুলোতে গিয়ে সহযোগিতা পাচ্ছে না। ৮ দিন পরেও প্রশাসনিক তেমন কোনো সহযোগিতা তার পরিবার পায়নি। বরং পুলিশের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে কষ্টদায়ক কথা বলা হচ্ছে। যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজ সামিরার সন্ধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
নিখোঁজ শিশু সামিরার মা বিলকিস বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘গত ২৬ আগস্ট বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সামিরা বাসা থেকে বের হয়ে ঘুগরাকাটি বাজারে তার চাচা নসরুল্লাহর চায়ের দোকানে যায়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরেরদিন আমরা থানায় জিডি করি। কিন্তু ৮ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও পুলিশের কোনো তৎপরতা নেই। তারা দায়সারা কথা বলছে। পার্শ্ববর্তী থানাগুলোতেও এখনও জিডির কপি পাঠানো হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওসি স্যার আমাদেরকে বলেছেন যে, নদীতে খোঁজ করেন। দেখেন লাশ পান কিনা?’
সামিরাকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিতপূর্বক অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
এতে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা আ. সামাদ, জাহাঙ্গীর, খুশি আক্তার প্রমুখ। এছাড়া স্বামীরার পরিবার, তার আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়।
সামিরা ঘুগরাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। তার বয়স ছয় বছর। সে কয়রা উপজেলার বাগালি ইউনিয়নের ঘুগরাকাটি গ্রামের শাহ আলম ও বিলকিস বেগম দম্পতির বড় মেয়ে। গত ২৬ আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছে। অভিযোগ বিষয়ে জানতে কয়রা থানার ওসি জিএম ইমদাদুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মিলেনি।
পতাকানিউজ/টিআই/আরবি

