ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নারীদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের প্রাক্কালে নারী প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা, সমান সুযোগ এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (আজ) বেলা দুইটার দিকে বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এতে বলা হয়, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী অংশগ্রহণ সবার মৌলিক অধিকার, যা নারী ও মেয়েদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষসহ সমাজে যাঁরা নানা বাধা, বৈষম্য ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকেন, তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
জাতিসংঘ জানায়, নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজ নারী প্রার্থী ও ভোটারদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে অনলাইন সহিংসতা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নজরে রেখেছে বিশ্ব সংস্থাটি।
বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয়ের মতে, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকার রক্ষাকারীসহ জনজীবনে সক্রিয় নারীরা ক্রমবর্ধমান সাইবার বুলিং, ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার, পরিকল্পিত অনলাইন হয়রানি এবং ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনার শিকার হচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের ঘটনাও বাড়ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, নারীদের অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নারী অংশগ্রহণ বাড়াতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘ জোর দিয়ে বলেছে, নারীসহ সব ভোটার যেন ভয়ভীতি, বৈষম্য, অনলাইন নির্যাতন বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই প্রার্থী ও ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন—এটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক নেতা, তাঁদের দল এবং সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হয়রানি, সহিংসতা বা ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা না ঘটে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, নারী প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলে জাতিসংঘ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের পাশে থেকে সহায়তা করতে জাতিসংঘ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করা হয়।
-পতাকানিউজ

