জুলাই আন্দোলনে যুক্ত যোদ্ধা, সমন্বয়ক এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক কয়েকজন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আন্দোলনের সম্মুখসারির কয়েকজনকে গানম্যান দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর থেকে অনেক যোদ্ধা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় রাজনীতিক নিয়মিত হুমকির মুখে রয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার নানা ষড়যন্ত্রের তথ্য উঠে আসায় ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা দেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। এ ছাড়া কয়েকজন রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য প্রার্থীও গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে জুলাই আন্দোলনের অনেক সংগঠক ও সমন্বয়ককে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ দেশ ও দেশের বাইরে থেকে এসব হুমকি দিচ্ছে বলে তথ্য রয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে হত্যার আগেও দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর সরকারের ভেতরে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এরপর ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের একটি তালিকা করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিরাপত্তা দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে হাদির পরিবারের সদস্যদের জন্যও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার এক বোনকে অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দেয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে যাদের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। তবে সবাইকে গানম্যান দেয়া সম্ভব নয়। কারণ অনেক আবেদনকারী শিক্ষার্থী এবং তাদের ব্যক্তিগত যানবাহন নেই। আবার পুলিশ বাহিনীতেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক গানম্যান সরবরাহের সক্ষমতা সীমিত।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লিখিত আবেদন ছাড়া নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। রোববার পর্যন্ত ১২ জন লিখিতভাবে আবেদন করেছেন। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আপাতত যাদের গানম্যান দেওয়া হয়েছে, তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা অস্থায়ীভাবে ডিএমপি ও পুলিশের বিশেষ শাখার মাধ্যমে দেয়া হয়েছে।
সোমবার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, যারা ঝুঁকির মধ্যে আছেন, তাদের একজন করে গানম্যান দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকা করেছে। তালিকার ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
গানম্যান পাওয়া সবাই রাজনীতিক কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি কিছু না বলে বলেন, যাদের সঙ্গে গানম্যান চলাফেরা করছে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সেটি খুঁজে বের করা যাবে।
পতাকানিউজ/এআই

