নির্বাচন শেষে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সব ধরনের প্রচার সামগ্রী অপসারণ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে সেই নির্দেশনা কেউ মানেননি। ফলে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বগুড়ার সাতটি আসনে প্রায় একই চিত্র বিরাজ করছে। কোনো প্রার্থী বা কোনো রাজৈনৈতিক দল তাদের কোনো নির্বাচনি প্রচার সামগ্রী খুলেননি।
বগুড়ায় এবারশান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে নির্বাচনের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বগুড়া জেলা শহর থেকে অপসারণ করা হয়নি প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যানার ও ফেস্টুন।
সরেজমিন দেখা গেছে, বগুড়া-৬ (সদর) আসনের বিভিন্ন সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশসহ শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় এখনও ঝুলছে নির্বাচনি ব্যানার, ফেস্টুন। সাতমাথা ছাড়াও শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে ব্যানার ঝুলতে চোখে পড়ে। এছাড়াও শহরতলির সড়কগুলোসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছে নির্বাচনি প্রচারণার ফেস্টুন লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও কোথাও ছেঁড়া ব্যানার ঝুলে থাকায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
শুধু জেলা শহর নয়, উপজেলা পর্যায়ের কোনো আসনেই ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন অপসারণ করা হয়নি। হাতে গোনা দু একটি স্থানে প্রচার সামগ্রী অপসারণ করা হলেও বেশিরভাগ স্থানে রয়ে গেছে। এতে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
শহরের বাসিন্দারা বলছেন, নির্বাচন শেষ হলেও প্রধান দুই দলসহ অনেক প্রার্থীই নিজ উদ্যোগে প্রচারসামগ্রী সরাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে শহরের সৌন্দর্য্য নষ্ট এবং পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে নালায় বর্জ্য জমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
জানতে চাইলে বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, ‘ভোটের পর স্ব স্ব ইউনিটকে নির্বাচনি প্রচার সামগ্রী সরানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় এসব সরানোর কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হবে।’
বগুড়া শহর জামায়াতের আমির (বগুড়া-৬ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী) অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচার সামগ্রী সরানোর কাজ চলমান রয়েছে। গ্রাম-গঞ্জে সরানো হয়েছে, বড় শহর তাই সময় লাগছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন শেষে পোস্টার ও ব্যানার অপসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা এখনও সরাননি, তাদেরকে আবারও এসব সরানোর জন্য নোটিশ দেয়া হবে। এরপরও তারা কোনো ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

