রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দলটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রাখার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করেছে।
পলিটিক্যাল সার্কেলে জানা গেছে, জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও জামায়াত উভয়েই নির্বাচনী জোটে এনসিপিকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে দু’পক্ষের প্রতিনিধিরা পর্দার আড়ালে এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এনসিপি এই প্রস্তাবে কোনোভাবেই সাড়া দিচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, যখন কোনো ছোট দল বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগ দেয়, তখন তাদের নিজস্ব মতাদর্শ হারিয়ে যায়। ইনু-মেননের দলগুলোই এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে তারা জনগণের কাছে আওয়ামী সরকারের আনুগত্যী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। এনসিপি সেই একই ভুলের পথে পা বাড়াবে না।
এনসিপি নেতারা স্পষ্ট করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ভোট ফলাফল যাই হোক না কেন, দলটি রাজনীতির মঞ্চে টিকে থাকতে চায়। ‘আমরা কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি করে রাজনীতি থেকে হারিয়ে যেতে চাই না,’ নেতারা বলেন।
সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি বিএনপির এক নেতার বাসায় এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে বিএনপি এনসিপিকে ৮ থেকে ১০টি আসন প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এনসিপির পক্ষ থেকে কোনো সম্মতি দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপির এই অবস্থান দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। ছোট ও স্বতন্ত্র দলগুলো বড় রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য হারানোর পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, এনসিপি যুগোপযোগী কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাজনীতির ভিত্তি গড়ে তুলতে চাচ্ছে।
এভাবে বিএনপি ও জামায়াতের আকর্ষণ সত্ত্বেও, এনসিপি নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক জোটে যোগ দিচ্ছে না। দলের এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বতন্ত্র পরিচয় রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
পতাকানিউজ/এনটি

