আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দিচ্ছে না রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারা প্রশাসন। তিন সপ্তাহ ধরে পরিবার–দল—কেউই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ায় দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ (পিটিআই) আজ মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ও আদিয়ালা কারাগারের সামনে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে, যদিও দুই শহরেই জনসমাবেশ নিষিদ্ধ।
পরিবার ও পিটিআই নেতাদের বারবার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে জোর গুজব ছড়িয়েছে। তিনি আদৌ সুস্থ আছেন কি না—এমন প্রশ্নও ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ইমরানের দুই ছেলে লন্ডন থেকে বাবার নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিয়ে প্রকাশ্য উদ্বেগ জানিয়েছেন। গত বুধবার আদিয়ালা কর্তৃপক্ষ জানায়, ইমরান কারাগারেই আছেন এবং সুস্থ। কিন্তু এর পরও সাক্ষাতের অনুমতি না মেলায় উত্তাপ কমেনি, বরং আরও বেড়েছে।
পিটিআই নেতা আসাদ কায়সার বলেন, হাইকোর্ট নিজের আদেশ কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং কারা প্রশাসনও আদালতের নির্দেশ মানতে অনিচ্ছুক। এ কারণেই তাঁরা হাইকোর্ট ঘেরাও করে পরে আদিয়ালার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করবেন। তিনি জানান, বিরোধী জোটের অন্য নেতারাও বিক্ষোভে থাকবেন; গহর আলী খান ইসলামাবাদে ও অন্যরা রাওয়ালপিন্ডিতে কর্মসূচি পরিচালনা করবেন।
গত সপ্তাহে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ সোহাইল খান আফ্রিদি আদিয়ালার সামনে অবস্থান ধর্মঘট করেন। আটবার চেষ্টা করেও তিনি ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। একই চিত্র কয়েক সপ্তাহ ধরে ইমরানের পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও—বারবার আবেদন, কিন্তু অনুমতি নেই। পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশ থাকায় পরিবারের সদস্যদের প্রতি সপ্তাহে সাক্ষাৎ সুবিধা পাওয়ার কথা।
৭২ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দী। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ উপঢৌকন গ্রহণ, গোপন নথি ফাঁসসহ একাধিক মামলা চলছে। কয়েকটিতে তিনি দণ্ডিতও হয়েছেন। ইমরানের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবির বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগে রায় হয়েছে; দুজনকে আলাদা আলাদা কক্ষে কারাবন্দী রাখা হয়েছে। টোকা–খান মামলা ও সাইফার মামলার অগ্রগতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল নজর রাখছে; মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইমরানের ‘ফেয়ার ট্রায়াল’ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে পিটিআই প্রতীক হারানো সত্ত্বেও স্বাধীন প্রার্থী হয়ে দলটির প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোট পায়, কিন্তু সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়। এর প্রেক্ষাপটে দলটির ওপর চাপ আরও বেড়েছে বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন।
পতাকানিউজ/কেএস

