‘পকেটমারকাণ্ডে’ একটি আন্তঃনগর ট্রেনকে উল্টোপথে চলতে হয়েছে। এ সময় বিরতিহীন আরেকটি ট্রেনকে কিছু সময়ের জন্য অনির্ধারিত যাত্রাবিরতি দিতে হয়। বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এতে দু’টি আন্তঃনগর ট্রেনই বিলম্বিত হয়।
আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এঘটনায় যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক থাকলেও সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি জটিল কিছু নয় বলে উল্লেখ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে নোয়াখালীগামী আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে নির্ধারিত যাত্রাবিরতি দেয়। চলে যাওয়ার সবুজ সংকেত পাওয়ার পর ট্রেনটি প্রায় এক কিলোমিটার চলে যায়। সেখান থেকে ট্রেনটি আবার স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। এ সময় চট্টগ্রামগামী বিরতিহীন আন্তঃনগর আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘উপকুল এক্সপ্রেস ট্রেনে একজন পকেটমার আটক করে ট্রেনে দায়িত্বরত পুলিশ। নিয়ম অনুযায়ী আটক ব্যক্তিকে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছিলো। এরই মধ্যে ট্রেন ছেড়ে যায়। তবে পুলিশ সদস্যসহ ট্রেনে দায়িত্ব একাধিক ব্যক্তি ট্রেনে উঠতে পারেননি। যারা উঠতে পারেননি তারা ট্রেনের সঙ্গে দৌঁড়াতে থাকেন। এক পর্যায়ে ট্রেন থামিয়ে দেয়া হয়। এরই মধ্যে আন্তঃনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেস আখাউড়া প্রবেশ করে। এ অবস্থায় উপকুলকে আবার স্টেশনে এনে বিরতিহীন সুবর্ণকে যেতে দেয়া হয়।
আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. নুর নবী জানান, ‘ট্রেনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা একজন আসামিকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য নামেন। পরে সংকেত পেয়ে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। এদিকে আসামি আখাউড়া রেলওয়ে থানার চৌকিতে বুঝিয়ে দিতে দেরি হয়ে যায়। যে কারণে ট্রেনটি আবার স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। এ সময় বিরতিহীন চট্টগ্রামগামী সুবর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলে আসায় সার্বিক বিবেচনায় এটিকে আগে যেতে দেয়া হয়।’
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, ‘ট্রেনে আটক পকেটমারকে বুঝিয়ে দেয়াকে কেন্দ্র করে সমস্যা হয়। বিরতিহীন ট্রেন চলে আসায় উপকুলকে পিছনে আনা হয়।’
পতাকানিউজ/বিপিবি/এএইচ

