পটিয়ায় মহান বিজয় দিবসে ৩ রাজনৈতিক দলের দিনভর শোডাউন লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী ফ্রন্ট। মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর সকাল থেকে দল তিনটি গণর্যালি ও বিজয় র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে ব্যাপক দলীয় নেতাকর্মী অংশ নেয় এবং প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী স্লোগান দেন। তাই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, বিজয় দিবসের আয়োজিত কর্মসূচি কি নির্বাচনে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের লড়াই?
তবে রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, ‘আয়োজিত কর্মসূচি কোন নির্বাচনী শক্তি প্রদর্শন নয়, বিজয়ের এ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে এ কর্মসূচি। সামনে নির্বাচন তাই অনেক কর্মী হয়ত আবেগি হয়ে প্রতীক নিয়ে দুই-চারটা স্লোগান দিয়েছেন।’
বিজয় দিবসের কর্মসূচিগুলোতে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ, দাঁড়ি পাল্লা ও মোমবাতি স্লোগান এবং প্রতীক প্রদর্শন ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া দলীয় পতাকার পাশাপাশি জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুনও ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে, বিএনপির গণর্যালিতে ‘রাজাকার আর স্বৈরাচার মিলে মিশে একাকার, জামায়াত শিবির রাজাকার এ মুহুর্তে বাংলা ছাড়’ জামায়াত ইসলামীর বিরুদ্ধে এসব স্লোগান দিতে দেখা যায়।
অপরদিকে, জামায়াতের স্লোগানে উঠে আসে গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মূখপাত্র হাদিসহ বিভিন্ন স্লোগান। তারা হাদির ওপর হামলা কেন প্রশাসন জবাব চাই, কে বলেছে রাজাকার সাঈদী মোদের অহংকার, কে বলেছে রাজাকার নিজামী মোদের অহংকারসহ নানা স্লোগান দেয়।
জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্যদিয়ে এদেশ স্বাধীনতা লাভ করেন। আমরা মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গণর্যালি কর্মসূচি পালন করেছি। যেহেতু বিএনপি গণমানুষের দল এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়েই মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা লাভ করেছি। ২৪ জুলাই ফ্যাসিবাদকে হঠিয়ে। সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুতরাং কোন কোন দলীয় কর্মী ধানের শীষ বা দলীয় প্রতীক নিয়ে স্লোগান দিতেই পারে। তবে এটা কোন নির্বাচনী শক্তিপ্রদর্শনের কর্মসূচি ছিল না।’

উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমির মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরবের। ৯ মাস যুদ্ধ করে আমাদের বীর বাঙ্গালি পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করেন। আগামী প্রজম্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। এ বিজয় কারো ব্যক্তিগত বা দলীয় সম্পদ নয়। সুতরাং আমাদের বিজয়ের এ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে মহান বিজয় বিজয় র্যালি করেছি। তবে এটি কোন শক্তিপ্রদর্শন নয়।’
দক্ষিণ জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক এম আলী হোসাইন বলেন, ‘বিজয় দিবস উদযাপন ও বিজয় র্যালি ছিল মূলত আমাদের দলের কর্মসূচি। সামনে নির্বাচন তাই অনেক কর্মী হয়ত আবেগি হয়ে দলীয় প্রতীক নিয়ে দুই-চারটা স্লোগান দিয়েছেন। মূলত বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয় র্যালি করা হয়েছে।’
পতাকানিউজ/এসএ/আরবি

