কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ঝাউবাগান উজার আর বালিয়াড়ি দখল করে অবৈধভাবে তৈরি করা মৎস্য ঘেরের ঘেরা ভেঙে দিয়েছে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বনবিভাগের যৌথ অভিযানিক দল। একইসঙ্গে সেখানে তৈরি করা প্লট আর কিছু ঘরও উচ্ছেদ করা হয়েছে।
রবিবার, ১৮ এপ্রিল বিকেল ৩টা থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনজু বিন আফনান নেতৃত্বে নাজিরারটেক সংলগ্ন সৈকতের পাশে এ অভিযান শুরু হয়।
অভিযানে ঝাউবাগান উজাড় করে ১ একরের বড় মৎস্য ঘেরটি চারপাশের ঘেরা ভেঙে দেয়ার পর ঘেরটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। একইসঙ্গে বালিয়াড়ি দখল করে প্লট আকারে ভাগ করা স্থান ও তৈরি ঘরও ভেঙে দেয়া হয়।
বিকেল সাড়ে ৫ টায় অভিযান বন্ধ করা হলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান জানান, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুরো এলাকার দখল উচ্ছেদ না করা পর্যন্ত চলবে অভিযান।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল পতাকানিউজ-এ ‘ঝাউবাগান উজাড়, বালিয়াড়িতে অবৈধ প্লট বাণিজ্য’ শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসনের।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনজু বিন আফনান জানান, সংবাদ প্রকাশের ফলে প্রশাসন বিষয়টি অবহিত হন। এর জেরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। একইসঙ্গে দখলদারদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের কাজ চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ দখলবাজ চক্রের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন মহেশখালীর বাসিন্দা অ্যাডভোকেট সায়েম, সেলিম, সৈয়দ আলম, সোহেল, মোস্তাক, নাছির, মিজান, সাইফুল, গিয়াস উদ্দিন, মনির, হুমায়ন ও কায়সার সহ আরো অনেকের নাম। তাদের মধ্যে রয়েছেন বন পাহারাদারসহ রাজনৈতিক দলের পদ-পদবী ব্যবহার করা লোকজন। রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে এ দখল কার্যক্রম চলছে।
পতাকানিউজ/এনএ/আরবি

