বান্দরবানের থানচিতে অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয়ার ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই পরিবেশ অধিদপ্তরকে ‘ম্যানেজ’ করে ফের কার্যক্রম চালু করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার বিকেলে আওয়ামীগ নেতা আনিছুর রহমান সুজনের (মেসার্স এস বিএম ব্রিকস) নামে অবৈধ ইটভাটাটি গুড়িয়ে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে ২ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। কিন্তু একইদিন রাতে পুনরায় ইটভাটাটি মেরামত করে সোমবার সকাল থেকে ফের চালু করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ অবৈধ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে নির্বিচারে বনের কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব চলে। এতে একদিকে বন উজাড় হচ্ছে, অন্যদিকে পাহাড়ি এলাকার জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এছাড়া পাহাড় কাটার ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে এবং বৃষ্টির সময় মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পাশাপাশি ফসলি জমি ও নদীভূমিতে পলি পড়ায় কৃষিকাজও ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেনে এ অবৈধ ইটভাটা চালুর সুযোগ দেয়া হয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, থানচি সদরের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উষামং হেডম্যান পাড়া ও একটি বৌদ্ধ বিহারের ঘেঁষেই গড়ে তোলা হয়েছে এ অবৈধ ইটভাটা। সেখানে পাহাড়ের মাটি সংগ্রহ করে ইট তৈরি করা হয়। ইটভাটার দুটি চুল্লির নির্গত কালো ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। পুনরায় ইটভাটাটি চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা উথোয়াই সিং মারমা ও উবানু মারমা বলেন, ‘দিনের বেলায় লোকচক্ষুর আড়ালে ইট তৈরির বিভিন্ন প্রস্তুতি চালানো হলেও রাতের আঁধারে পাহাড় থেকে মাটি ও বন থেকে কাঠ এনে ইটভাটায় মজুত করা হচ্ছে। কালো ধোঁয়ায় চারপাশের বাতাস দূষিত হচ্ছে। ফলে শিশু, নারী ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘ম্যানেজ করে ইটভাটা পরিচালনার বিষটি এড়িয়ে বলেন, ‘ইটভাটাটির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, ‘আবারও শিগগিরই থানচি ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
পতাকানিউজ/আরআর/আরবি

