পর্যটকে মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে লাবণী পয়েন্ট থেকে শুরু করে কলাতলীর পয়েন্ট পর্যন্ত দেখে মিলেছে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের স্রোত। যেখানে সমুদ্রের ভাজে স্রোতের খেলার মতো মানুষ মিলেমিশে একাকার।
সৈকতের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ তুহিন জানান, এমন দৃশ্য শুধু বিকেলের নয়। সকাল থেকেও পর্যটকে মুখর ছিল সৈকত এলাকা ।
এদিকে সৈকতের পাশাপাশি পর্যটন জোন হিসেবে পরিচিত কলাতলীর হোটেল-মোটেল এলাকার সড়কেও ছিল মানুষের ঢল। দেখা মিলেছে যানজটেরও।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীররা জানান, বড়দিনসহ টানা তিন দিনের ছুটিতে কম হলেও কক্সবাজারে এখন দুই লাখের অধিক পর্যটক ভ্রমণে এসেছেন। যা চলতি বছরের রেকর্ড পরিমাণ পর্যটকের আগমণ।
সৈকতে কথা হয় সিলেট থেকে বেড়াতে আসা হাসনাত শরীফের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার সব সময় আমার প্রিয় জায়গা, সুযোগ পেলেই চলে আসি। কখনও একা, কখনও বন্ধুদের সাথে। তবে আজ এসেছি পরিবার নিয়ে। এখানে সমুদ্র, পাহাড় সব মিলেই মন ভালো করার পরিবেশ রয়েছে।’
চট্টগ্রাম থেকে আসা তাসনিন চৌধুরী জানান, কক্সবাজারে বার বার আসতে ইচ্ছে হয়। শীতের এ আবহে দেশের অন্যান্য স্থান থেকে কক্সবাজার আলাদা। পরিবেশ এবং সৌন্দর্য মানুষকে বিমোহিত করে।
এদিকে বড়দিন উপলক্ষে শহরের অভিজাত হোটেলগুলোতে রয়েছে নানা আয়োজন ও উৎসব। যার আমেজ তৈরি করতে যেগুলো বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের সব কক্ষই বুকিং হয়ে আছে, এ মৌসুমে শত কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিনের ছুটি আছে। এছাড়াও ৩১ ডিসেম্বর বছর শেষ হতে চলেছে। মাসের শেষ সময়ে প্রচুর পর্যটক আসছেন, সব মিলিয়ে পর্যটন ব্যবসায় শত কোটি টাকার বাণিজ্য ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।’
পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি হয়রানি প্রতিরোধে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে সংস্থাটির কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘ আমাদের প্রথম এবং মুখ্য কাজ হচ্ছে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সে লক্ষ্যে নিয়মিত তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে টুরিস্ট পুলিশ। পর্যটক হয়রানি দমনে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।’
পতাকানিউজ/এনএ/আরবি

