দুবাইয়ের একটি আবাসিক এলাকায় খোলা অবস্থায় থাকা ভূগর্ভস্থ পানির ট্যাঙ্কে পড়ে ৭ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ঘটনাটির দায়ভার নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সম্প্রতি দুবাই প্রাইমারি কোর্ট সম্পত্তির মালিককে শিশুটির মায়ের কাছে ১ লাখ ২৫ হাজার দিরহাম (বাংলােদিশ মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা) ক্ষতিপূরণ এবং রায়ের তারিখ থেকে পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বছরে ৫% হারে সুদ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে।
ঘটনার পটভূমি
মামলার নথি অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে শিশুটি বাড়ির পিছনের খোলা পানির ট্যাঙ্কে দুর্ঘটনাবশত পড়ে যায়। ট্যাঙ্কটি মাটির সমতলে ছিল এবং এর ঢাকনা খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল। শিশুটির মা আদালতে জানান, আবাসিক কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ট্যাঙ্কটিতে সুরক্ষাবেষ্টনী স্থাপন কিংবা ঢাকনা ঠিকভাবে বন্ধ রাখার মতো মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে জায়গাটি অরক্ষিত ও সহজেই প্রবেশযোগ্য অবস্থায় ছিল।
তদন্তে নিরাপত্তা ঘাটতির প্রমাণ
আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনাটি ‘পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব’-এর প্রত্যক্ষ ফল। খোলা ট্যাঙ্কের ঢাকনা, সুরক্ষাবেষ্টনীর অভাব এবং পর্যবেক্ষণহীন এলাকা—এসবই শিশুটির মৃত্যুর জন্য দায়ী। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্যাঙ্কটি সঠিকভাবে সিল বা সুরক্ষিত করা থাকলে এমন ঘটনা একেবারেই এড়ানো যেত।
দুঃখাহত মা তার সন্তানের মৃত্যুর জন্য ৯ লাখ ৭০ হাজার দিরহাম ক্ষতিপূরণ দাবি করে আদালতে মামলা করেন। তিনি দাবি সমর্থনে চিকিৎসা প্রতিবেদন, সন্তানের মৃত্যু সনদ এবং তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত ব্যবস্থাপনার অবহেলার নথি জমা দেন।
আদালতে অভিযুক্তদের অজুহাত খারিজ
প্রতিবাদী পক্ষ আদালতে বিভিন্ন আপত্তি তুলে মামলাটি বাতিলের চেষ্টা করে। তারা দাবি করে, এ বিষয়ে পূর্বেই অন্য একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং কিছু অভিযুক্তের আইনি অবস্থান নেই। তবে আদালত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে জানান যে, আগের মামলার পক্ষগুলো বর্তমান মামলার সঙ্গে মিল নেই এবং এবারের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার নতুন অভিযোগ আছে।
এছাড়া প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে অন্য কিছু অভিযুক্ত সরাসরি ওই ট্যাঙ্ক বা পিছনের এলাকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন। আদালত বলেন, সম্পত্তির মালিকই ট্যাঙ্ক ও আশপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্বে ছিলেন—এ দায়িত্ব তিনি পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
চূড়ান্ত রায়
সব আপত্তি খারিজ করে আদালত সম্পত্তির মালিককে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন— শিশুটির মাকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার দিরহাম ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। রায়ের তারিখ থেকে সম্পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ৫% হারে সুদ বহাল থাকবে। বাকি দাবিকৃত অর্থ আদালত খারিজ করেছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা
এই মামলাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবাসিক এলাকা ও ভবন ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে পানির ট্যাঙ্ক, নির্মাণ এলাকা, ইউটিলিটি অ্যাকসেস পয়েন্টের মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সুরক্ষা ব্যবস্থা উপেক্ষা করলে দায়ভার সম্পত্তির মালিক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে—এই বার্তা আদালতের রায়ে স্পষ্ট হয়েছে।
সূত্র : খালিজ টাইমস
পতাকানিউজ/কেএস

