পাবনা ঈশ্বরদীর চরগড়গড়ি জগিরমোড়ে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের করা দুই মামলায় প্রায় ৩৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে উভয়পক্ষের মামলায় প্রায় ৭০ জনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার, ২৯ নভেম্বর দুপুরে মামলার বিষয়টি থানা ও প্রশাসনের একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে বিএনপির করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পাবনা-৪ (ঈশ্বররদী-আটঘড়িয়া) আসনের এমপি প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক (অব.) আবু তালেব মন্ডল।
অপরদিকে জামায়াতের পক্ষে করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বিএনপির সাহাপুর কৃষক দলের সভাপতি মক্কেল মৃধাকে।
বিএনপির করা মামলায় জামায়াত নেতা আবু তালেব মন্ডলকে আসামি করায় আজ বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
থানা ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিএনপির এমপি প্রার্থী পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মক্কেল আলী মৃধার ছেলে বাঁধন হাসান হালিম বাদী হয়ে জামায়াত নেতা আবু তালেব মন্ডলকে প্রধান আসামি করে ৩২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জনকে আসামি করেছেন।
জামায়াত ইসলামের পক্ষে মামলা করেছেন উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নে শেখেরদাইড় এলাকার রওশন আলীর ছেলে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম। তিনি বিএনপির সাহাপুর কৃষক দলের সভাপতি মক্কেল মৃধাকে প্রধান আসামি করে ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করেছেন।
এদিকে মামলার পর থেকে উপজেলা চরগড়গড়ি এলাকা থেকে সটকে পড়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
জানতে চাইলে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল জানান, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে পূর্ব নির্ধারিত নির্বাচনী প্রচারণা সভা উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের জগিরমোড় এলাকায় প্রচারণায় গিয়েছিলেন। এসময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের কর্মী বাহিনী মক্কেল মৃধার নেতৃত্বে সশস্ত্র লোকজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার হাইস মাইক্রোসহ অন্তত ৫০টি মোটর সাইকেল ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ লুট করে নিয়ে যায় এবং অন্তত শতাধিক আহত হন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
একই বিষয়ে জানতে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মক্কেল মৃধা জানান, ঘটনার দিন জামায়াত প্রার্থী আবু তালের মন্ডলের কর্মী-সমর্থকরা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং গুলি বর্ষণ করে। হামলায় তিনিসহ দলের অন্তত ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের অনেকেই এখনও চিকিৎসাধীন।
ঘটনার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মাদ শাজাহান আলী জানান, বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারকারীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। এলাকায় পুলিশকে মোতায়েন করা হয়েছে।
পতাকানিউজ/এসএমএইচ/আরবি

