পাবনার ঈশ্বরদীতে শুক্রবার দিনগত রাতে মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘরে পাওয়া গেছে দাদীর লাশ। আর বিলে পাওয়া গেছে নাতনির বিবস্ত্র লাশ। এমন হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়ার দিকশাইলে এ ঘটনা ঘটে ।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি নির্মম এবং নৃশংস। এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। ইতোমধ্যে রাব্বী নামের এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিহতরা হলেন, ভবানিপুর উত্তরপাড়ার দিকশাইলের মৃত নাজিমুদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনী মাদ্রাসার দশক শ্রেণিল শিক্ষার্থী জামিলা আক্তার (১৬)। নাতনীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হতে পারে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশ। জনবসতি এলাকায় এক সঙ্গে জোড়া খুনের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, জামিলার বাবা জয়নাল হোসেন ও মা শিরিনা খাতুনের মধ্যে বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে বাবা ও দাদীর সঙ্গে বাস করে জামিলা। সে বাড়ীর অদুরে অবস্থিত দিকশাইল মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। জামিলার বাবা গত কয়েকদিন আগে ঢাকায় কাজে গিয়েছে। এই কারণে বাড়িতে বৃদ্ধা দাদীকে নিয়ে জামেলা একাই বাড়িতে ছিল।
শনিবার সকালে প্রতিবেশী আসাদুল প্রামাণিকের ছেলে ফাহিম পানি নেওয়ার নিহতের বাড়িতে যায়। বাড়ির দরজায় বৃদ্ধাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে ফাহিম চিৎকার দেয়। এতে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে তারা নাতনী জামিলাকে খোঁজাখুজির করতে থাকে। একপর্যায় বাড়ি থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দুরে জামিলার মরদেহ পাওয়া যায়। তার শরীরে কাপড় ছিল না। কাপড় অদূরে পড়ে ছিল। এরপর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রতিবেশী মারুফ হোসেন পতাকানিউজকে, ঘটনার দিন সকালে তাদের বাড়িতে নলকুপ বসানোর জন্য পানির প্রয়োজন পড়ে। তার ছোটভাই ফাহিম পানি আনতে নিহতের বাড়িতে যায়। সেই প্রথমে বৃদ্ধা দাদীকে দরজার সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা সবাই ছুটে এসে এই নির্মম ও নৃশংস ঘটনা দেখতে পান।

নিহতের চাচাতো ভাই জহুরুল ইসলাম জানান, সকালে তারা কাজে চলে যান। সকাল ৮ টার দিকে চাচাতো বোন জামিলা ও দাদাকে খুন করে হত্যার খবর পান।
নিহত জামিলার মা শিরিনা খাতুন জানান, প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের ছেলে রাব্বি (১৮) বেশ কিছুদিন ধরে জামিলাকে কু-প্রস্তাব দিতো বলে জামিলা তাকে মোবাইলে জানিয়েছিল। এরপরই মেয়ে জামিলা ও বৃদ্ধ শ্বাশুড়ির এই নৃশংস হত্যার ঘটনা ঘটলো।
এদিকে দাদী ও নাতনীর জোড়া খুনের ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাব্বি নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিহতের বাড়ি থেকে গাজা সেবনের উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে বলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রতিবেশীদের ধারণা নিহত জামিলার বাবা জয়নাল লোকজন নিয়ে তাদের বাড়িতে এনে গাজাসহ মাদক সেবন করতেন। ঘটনার দিন জয়নালের অনুপস্থিতিতে ওইসব মাদকসেবনকারীরা তার বাড়িতে এসে কোন কারণবশত উত্তেজিত হয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ, ডিবি, পিবিআই, র্যাব সদস্যারা কাজ করছে। নিহতদের মাথায় আঘাতের ক্ষত রয়েছে। হত্যা রহস্য উদঘাটনসহ অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, অনেকগুলো বিষয় সামনে নজরে রেখেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর একাধিক দল মাঠে কাজ শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই দাদী ও নাতনীর হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচন করা সম্ভব হবে।
পতাকানিউজ/এসএমএইচ

