চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা এলাকায় পূর্ব বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত শুটার ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
বুধবার, ৮ এপ্রিল রাত ১০টায় কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের পূর্ব বিন্দারখীল পাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল বিকেল ৩টায় নগরীর দামপাড়া সিএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।
পুলিশ জানায়, গত ৪ এপ্রিল রাত ৯টায় বাকলিয়া থানার মিয়াখান নগর এলাকার ময়দার মিল স্কুল মাঠের সামনে রাস্তার ওপর মোরশেদ খান গ্রুপ ও শওকত গ্রুপের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষ হয়। এসময় দুপক্ষ পিস্তল, শর্টগান ও দেশি অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালা ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
এসময় সন্ত্রাসী মোরশেদ খানের নেতৃত্বে ফারুক হোসেন এবং মো. হোসেনসহ অন্যান্য আসামিদের হাতে থাকা পিস্তল ও শর্টগানের ছোঁড়া গুলিতে পথচারী শিশু ফাহিম (১৩) দুই পায়ের উরুতে গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া এ ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।
পরে এ ঘটনায় আহত শিশুর বাবা সোলাইমান বাদশা বাদী হয়ে মোরশেদ খান, শওকত, ফারুক ও হোসেনসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।
এরপর ফারুকের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি দেশি তৈরি শর্টগান উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে ৬ এপ্রিল শওকত এবং ৭ এপ্রিল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সবশেষে ৮ এপ্রিল রাতে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের পূর্ব বিন্দারখীল পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফারুকের বিরুদ্ধে আগেও একটি মাদক মামলাও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে, গুলিবিদ্ধ শিশু ফাহিমসহ আহতরা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, সহকারী পুলিশ কমিশনার (চকবাজার) মো. তারিকুল ইসলাম ও বাকলিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ সোলাইমান।
পতাকানিউজ/আরবি

