তিনি কখনও পুরুষ, আবার কখনও সাজতেন নারী সেনা সদস্য। নারীকণ্ঠে কথা বলে ফেলতেন ফাঁদে। এরপর হাতিয়ে নিতেন টাকা। এছাড়া নারী কেলেঙ্কারিতে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে আদায় করতেন টাকা। অবশেষে সেই প্রতারক ধরা পড়েছে র্যাবের জালে।
বুধবার, ১২ নভেম্বর ভোরে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অভিরাম গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের মূলহোতা নাজমুল হাসান ওরফে জিমকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে। তিনি একই এলাকার মো. সাজ্জাদ হোসেন ওরফে জাহিদুল ইসলামের ছেলে। নাজমুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে অনলাইনে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।
র্যাব জানায়, নাজমুল সেনা ইউনিফর্ম পরে ভিডিও কলে নিজেকে সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। কখনও জমি কেনাবেচার বিনিয়োগের প্রস্তাব, কখনও বিশেষ সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। তার এমন প্রতারণার ফাঁদে পড়েন কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানার সাওয়ালিয়া কারার বাড়ি বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম (৪৫)।
সেনাসদস্য পরিচয়ে নাজমুল ও তার সহযোগীরা রাজশাহীতে ১০ কাঠা জমির শেয়ার ক্রয়ের প্রলোভন দেখান তাকে। তারা জানায়, দুটি শেয়ার তাদের নামে ক্রয় করা আছে, যার একটি এক নারী সেনা সদস্যের। সেই প্লট বিক্রির জন্য রফিকুলকে প্রস্তাব দেয়। ইউনিফর্ম পরে ভিডিও কলে বিশ্বাস অর্জন করে তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে ১৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। পরে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করলে সন্দেহের সূত্র ধরে তিনি জানতে পারেন, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানায় প্রতারণার মামলা করেন রফিকুল।
গ্রেপ্তারের সময় নাজমুলের কাছ থেকে সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম-কম্ব্যাট ড্রেস একটি, কম্ব্যাট গেঞ্জি একটি, ফিল্ডক্যাপ একটি, টাওয়াল একটি, ট্রাউজার একটি। নৌবাহিনীর ইউনিফর্ম- ৩ নং সাদা ড্রেস একটি, কম্ব্যাট গেঞ্জি ২টি, নেভি জার্সিক্যাপ একটি, তোয়ালে একটি। এছাড়াও বিভিন্ন বাহিনীর বিভিন্ন কালারের ক্যান্টিন গেঞ্জি ১৫ টি এবং ভুয়া এনআইডি কার্ড ৯ টি, বাটন মোবাইল ৫ টি, স্মার্ট মোবাইল একটি, মেয়েদের পরচুলা একগোছা এবং মেকআপ সেট উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৩ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, ‘গ্রেপ্তার নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্য পরিচয়ে প্রতারণা করছিল। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানা হস্তান্তর করা হয়েছে।’
পতাকানিউজ/এসআই/আরবি

