মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের জের ধরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৯ সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তাদের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
রবিবার, ১১ জানুয়ারি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কক্সবাজারে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা পালিয়ে আসে। তাদের বিজিবি হেফাজতে নেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
আজ সকাল ৯ টায় টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের জেরে ছোঁড়া গুলিতে টেকনাফের এক শিশু নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য জানান হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র।
এদিকে বিকাল পৌনে ৩ টায় উপ-পরিদর্শক জানান, গুলিবিদ্ধ শিশুটি এখনও বেঁচে আছে। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ শিশু আফনান (৭) একই এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
খোকন চন্দ্র রুদ্র বলেন, আজ সকালে টেকনাফে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকা সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে দুপক্ষের মধ্যে অন্তত ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা সীমান্তের শূণ্যরেখার দিকে পিছু হটে অবস্থা নেয়। এতে সকাল ৯ টার দিকে আবারও উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এসময় মিয়ানমার দিক থেকে ছোঁড়া গুলি টেকনাফ সীমান্তের এক বসতঘরে আঘাত হানে। এতে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। শুরুর দিকে শিশুটি মারা গেছে বলে প্রচার করা হয়। পরে দেখা গেছে, শিশুটি বেঁচে আছে। তাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সংঘর্ষে টিকতে না পেরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৯ সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এসময় বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা তাদের হেফাজতে নিয়ে আসে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলি এক শিশু আহত হওয়ার পর মারা গেছে বলে প্রচার করা হয়। এতে স্থানীয় লোকজন সড়ক অবরোধ করে। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ জনপ্রতিনিধি পরিস্থিতি শান্ত করে নিশ্চিত হওয়া গেছে শিশুটি মারা যায়নি।
পতাকানিউজ/এনএ/আরবি

